তুমি এখনো নির্বিকার!
নোংরা ধুলো ঐ সবুজ পাতাতে
গ্রাস করেছে আশৈশব, জীবন-
প্রৌঢ় জঘন্য বেসুরে শব্দে
জোনাকি, পাখি, শেয়াল এবং কুকুর
আত্মহুতির পর উর্বর মৃত্তিকায়
যা ছিল অবাসযোগ্য। তুমি শুনছো?
অন্ধকার এক ঘনিয়ে এসেছে পায়ের কাছে
চিবুকের কাছে বিষাক্ত তলোয়ার
চুমু নিষিদ্ধ। চিঠি নিষিদ্ধ।
মুখ তুলে দেখো, তুমি কি অন্ধ?
কালির বদলে উষ্ণ রক্তের ফোঁটা
শাদা কাগজে পালাচ্ছে প্রিয় বর্ণমালা
কোথায় লুকাবে? তিব্বতেও চৈনিক অধিকার
তুমি এখনো নিশ্চল!
তপস্বী অক্ষর; যার সঙ্গে তুমি চাইতে আলিঙ্গন
ঘাড়ের কাছে অসুর প্রশ্বাস, বুঝছ
যুদ্ধ চলছে, ঢের লাশের ভেতরে বিগত লাশ
গাঁথা ধূসর, কালো রঙা পতাকা-
অচেনা হরফে বিদ্বেষ -বৈরিভাব
সাত রঙ নিষিদ্ধ। স্বস্তি নিষিদ্ধ।
উদ্বেগ নেই তোমার!
আশ্চর্য আমি হচ্ছি না তবুও
সিংহ ভাগ করাতের তলে কাটা
এখানে পদ্ম ফুটবেনা বলে ঘোষণা হলো, ভাবতে পারো!
শাপলা বীজ নোনা জলে সমাধিত
নৃত্যরত ময়ূরী মুখ ভার করে যোগাযোগ রাখছে এসালাইমের খবর
বন না থাক, খাদ্য না থাক- আরো কিছু
মানুষ কোথাও আছে?
গত বছর বর্বর হামলায় সরকার পড়ে গেছে
তুমি শোননি?
তারপর থেকে শহর-বন্দর, গ্রাম, মঠ-মন্দির
দাউ দাউ করে জ্বলছে
যখন তখন ধর্মঘট, আন্দোলন
খুন-ধর্ষণ আর জখমের বিনোদনে
স...ব ছাই!
তবুও তুমি নিস্তব্ধ!
শিরদাঁড়া সোজা করে বয়ে যাচ্ছি ব্যথা
আঘাতের বিপরীতে শুধু ক্ষয়-
হাত তুলতে আঙুল মরছে
কণ্ঠ এই চার দেয়ালে অনুরণিত
থামবো না, থামা যাবে না...
আমাকে আরো গুরুতর যুদ্ধে নামাও
হৃদয় স্বাধীন করে সঁপে দেব ইতিহাস।
তোমার ভালবাসা আমার অস্ত্রাগার
যদি হতো
তাহলে তুমি বোবা হতে না
তুমি কঠোর হতে না
তুমি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে না রাষ্ট্র!