রমা বাবুর ছিল গো এক বিশাল ব্যবসা,
চাল-ডালের বস্তা, কাপড়, তেল-নুন-সাজা।
হাটে গেলে লোকে তার দোকানে যাইত,
দাম কম, কথা মিষ্টি—প্রাণটা জুড়াইত।
কিন্তু মনুষ্যহৃদয় বুঝো কারো নহে চেনা,
পাইলে সুবিধা, কেহ বা করে না গণনা।
কেউ হইল হিতু, কেউ রচিল ষড়যন্ত্র,
নিরীহ রমারে দিলো এক কালো যন্ত্রণ।
একদিন এল এক ধূর্ত ডাকাত,
মুখে মধুর হাসি, অন্তরে শত আঘাত।
বলে, "রমা দা, তোমার কীর্তি গো সারা দেশে,
আমারও চাই একটু সহানুভূতি বেশে!"
রমা বাবু দিল তাহারে খোলা হাত,
বলেন, "ভাই, সৎ পথে চাইলে লও না শপথ?"
কিন্তু দুষ্টের মন হায়, কোথায় বুঝিবে সাধুতা,
রাতের আঁধারে সে আনিল মহা বিপর্যয়তা।
আগুন জ্বালাইয়া দিল রমার গোদামে,
লোকে দৌড়াইয়া এলো, কান্না উঠিল গাঁয়ে।
রমা বাবু চাহিয়া দেখিল সেই নিঃস্ব বাণিজ্য,
চোখে জল এল, কিন্তু মুখে নাই কোন বিশাদ।
বলেন, "যাহা গেল, তাহা পুনরায় আসিবে,
সততার রথ কখনো থামিতে নাহি পারে।
আমি আবার উঠিব, আবার গড়িব,
যত দিন বাঁচিব, মানুষেরি পাশে রহিব।"
গ্রামবাসী জড়ো হইল, কাঁদিল সকলে,
রমার বাণী যেন ঝড়িয়া পড়িল অন্তরে।
সে দিন হতে রমা হইল ইতিহাস,
সততা, দয়া, ধৈর্য—এ ছিল তাহার প্রবাস।
আজো সে গল্প শুনে কেঁপে ওঠে প্রাণ,
রমা বাবুর নাম জুড়িয়া পড়ে সারা ধান।
সততার বানিজ্য হয় না কখনো ক্ষয়,
রমার জীবন দিছে সে বড় উপদেশ রয়।