এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ডাকে না কেউ;
আমিও কারো খবর রাখি না খুব একটা।
এই জগৎ সংসারে আমার তেমন কোনো প্রয়োজন দেখি না;
অন্যরাও হয়তো সেরকমই ভাবে।

কোনো কিছু কিনতে গেলে দোকানদার ঠকাতে চায়;
পকেটমার সুযোগ খুঁজে।
রিক্সাওলা আমাকে রিক্সায় উঠাতে চায় না;
বাসের কন্ডাকটর বেশি ভাড়া দাবি করে।

যুবক-যুবতীরা বলে,'চাচা, এ বয়সে সাবধানে চলবেন;
বাইরে না বেরোনোই ভালো।'
বুড়োরা বলেন,'হাঁটেন, হাঁটেন;
বিছানায় পড়ে যাবেন তো!'

ঘরেও কি শান্তি আছে;
সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত।
আমি কিছুটা খিটখিটে স্বভাবের;
কোনো কিছু এদিকসেদিক হলে অনেক সময় ক্ষেপে উঠি।

গিন্নিরও বয়স হয়েছে;
প্রায়ই অসুস্থ থাকেন।
তবুও তাঁর বিশ্রাম নেওয়ার ফুরসৎ মেলে না;
রান্নাবান্না আর নানান খুঁটিনাটি কাজে দৌড়াতে থাকেন।

আমার রাতে তেমন ঘুম হয় না;
দিনে ঘুমাই।
গিন্নির দিন আর রাত সমান ;
ঘুমানোর সময় পান না।

গিন্নি আজ ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যের পর থেকে শুয়ে আছেন;
আমাকে ডাকতে নিষেধ করেছেন।
রাত তিনটে বাজে ;
এখনো ঘুমিয়ে আছেন।

আমি বসে বসে দেখছি ;
আর ভাবছি।
এই নারী আমাকে আর এই সংসারটাকে আগলে রেখেছেন;
যুবক বয়স থেকে আজ অব্দি।

আমিও তার অসুস্থতায় ব্যাকুল হই;
নির্ঘুম প্রহর কাটে।
বাসায় কিংবা হাসপাতালে কঠিন উদ্বেগে আমার সময় কাটে;
ওষুধ-পথ্য আর সেবা-শুশ্রুষার কমতি রাখি না।

অচেনা দুটো মানুষের এক জীবন এভাবেই কেটে যাচ্ছে;
পরস্পরের নির্ভরতায়।
একদিন দপ করে নিভে যাবে জীবন প্রদীপ;
দুজনেই হারিয়ে ফেলবো দুজনকে।

রচনাকাল: ঢাকা, ০৩ মার্চ ২০২৫।