আমরা এক আবদ্ধ শালিক,
অজগরের ডালে বসে বসে সারাদিন করি কিচিরমিচির।
আমরা আবদ্ধ, আমাদের নেই যে কোনো ভয়।
উড়ি কেবলই খেয়ালী আকাশে,
      অদৃষ্টের ডালা মেলে
  জানিনা কোন অজুহাতে।
বারবার ঝগড়া হয়; কবুতরের পালের সাথে। খাবার নিয়ে।
পাই কখনো একমুঠো ভাত, আবার কোথাও এক টুকরো রুটি। সবার সাথে মানিয়ে দিতে হয়।
না! একভাবে মোরা স্থির থাকতে পারিনা।
একদা কেউ ঢিল ছুঁড়ে; দুইগজ দূর হতে
সূতোর ধারালো পায়েই ব্যাকিয়ে ব্যকিয়ে চলি।
কখনো গিয়ে বসি পল্লির সবুজ দেশে
খোলা ফসলের নীচে
    বিহঙ্গের পালের সাথে।
হয় বারবার উসখুস নিজের চরিত্র বিচারে
   আসি দলের সাথে-
স্বার্থপরতার যুদ্ধে সেই বিশাল হরিতে।
যখন আসে ঘনিয়ে দুপশলা, লামে অঝোরে
  আমরা কী করব এখন ? জুটি যে বেঁধেছিলাম
   কৃষকের স্বর্গে বসব খেয়ালে ধান ছড়াব।
সব ভেস্তে গেল।
কেন করি মোরা ঝগড়া?
শূন্য কলসি ভেবে আকাশকে যে করেছিলাম অবজ্ঞা।
মোরা বুঝলাম এক্ষনি।
শেষ পর্যন্ত মোদের ভিজতেই হল।
  কাকতাড়ুয়া পর্যন্ত মোদের দেখে হাসে।
  ধরার কোলে অধরা, যদিও বা কী করতে পারি ?
  বোবা হয়ে ছুটতে ছুটতে বসি গাছের শাখায়,
ভ্রমরের সঙ্গে গা ঘেষে ঘেষে।
কোথাও বা তাড়া খাই ভেজা আশটে মেঝেতে।
কারণ আমরা তো এখন আশ্রিত
  আমরা এক আবদ্ধ শালিক।