আমি হলাম রাজনীতিবিদ, কড়া কথা মুখে;
অত্যাচারী, স্বৈরাশাসক দেই ভাষণেই রুখে।
ভাষণ শেষে হাততালি পাই, শাসন করি পরে;
শত শত ভক্ত এসে আমার পিছু ধরে।
ভক্তরা সব শক্ত ভীষণ ছুটতে আমার পিছু;
জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে হলে আমার কিছু।
আমি তাদের অভিভাবক, প্রাণের প্রিয় নেতা;
আমার হারেই হারছে যেন আমার জিতেই জেতা।
আমি যখন ভাষণ ঝাড়ি সবার মুখে তালা;
ব্যাকুল সবাই আমার গলায় দিতে ফুলের মালা।
আমি হলাম কবি মানুষ, কাব্যে আমার ঝোঁক;
আমার লেখা কাব্য পড়ে মুগ্ধ হাজার লোক।
হাজার লোকের বাজার দেখে রাজার মতো চলি;
আকাশ ছেড়ে আমি কি আর মাড়াই ধরার গলি?
আকাশ আমার নিজের বাড়ি, গাড়ি হলো মেঘ;
ধরায় আসার জন্যে কি আর এসব দেবো ত্যাগ?
সবাই ডাকে কবি সাহেব, সালামও দেয় সাথে;
এই আকাশেই জীবন আমার কাটছে দুধে-ভাতে।
আমি হলাম প্রেমিক পুরুষ বউয়ের প্রিয় স্বামী;
দূরন্ত এক ঘোড়া হয়েও বউয়ের কথায় থামি।
আমার আশায় দিন কাটে তার, আমার বুকে রাত;
আমার ক্লান্তি দূর করে তার নরম দুটি হাত।
বউটা আমার চলার পথে যুগ-জনমের সাথী;
অমাবস্যার অন্ধকারে জোনাক পোকার বাতি।
তার দু’হাতে দেই পরিয়ে কাচের রঙিন চুড়ি;
আমার জীবন বউয়ের হাতে নাটাই দেওয়া ঘুড়ি।
আমি হলাম যোগ্য পিতা, পূরণ করি দাবি;
ছেলের কাছে আমি যেন সুখ-আহ্লাদের চাবি।
বুক পকেটে দুখ জমিয়ে সুখ পুড়িয়ে রোজ;
জগত জুড়ে করছি আমি ছেলের সুখের খোঁজ।
খোঁজ পেয়েছি সুখের? আমি পাই নি সুখের দেখা;
চেষ্টা করি ছেলের ভালে আঁকতে সুখের রেখা।
ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়েই গড়ছি বাড়ি-গাড়ি;
যাচ্ছি রেখে ছেলের তরে বিশাল জমিদারি।
জমিদারের জমি পেয়ে ছেলে ভীষণ খুশি;
চুরি করে হাজার লোকের ঘৃণা আমি পুষি।
চূর্ণ হওয়া জীবনটা কী পূর্ণ কভু হয়?
মরীচিকার পিছু ছুটে জীবন হলো ক্ষয়।
ক্ষয়ে যাওয়া জীবন যখন ধরল মরার পথ;
জীবন এসে মরার কাছে নাকে দিলো খত।
আমার কাছে জীবন যেন টিকটিকিদের লেজ;
লাফালাফির একটু পরেই যায় ফুরিয়ে তেজ।
সবকিছুরই প্রমাণ আমি পেলাম হাতে-নাতে;
পরপারে পাড়ি দিলাম শূন্য দুটি হাতে।
মরার পরে কাঁদলো দুদিন, তিন দিনে সব শেষ;
রইল না তো কারো বুকেই আমার দুখের রেশ।
৯-ই মার্চ, ২০২৫
লামা, বান্দরবান।
#