ভালো থাকা।
ভালো থাকা কাকে বলে? কেবা জানে তার মানে?
কি জানি কেমনে খুঁজে পায় তারে কোন খানে?
আমরা যা দেখি, বুঝি শিখি তা পরের চোখে,
ভালো থাকার আশা জাগে তোমাদের ভালো দেখে।
তবু যদি কখনো ছেলে বেলা ফিরে আসে,
মনের চৌকাঠে এসে ঝাঁপি খুলে নিয়ে বসে।
অনুভবের পালস মেপে পাই বুঝি ঠিকানা,
দেখি ভালো থাকা শুধু এক সহজ সরল ভাবনা।
সবাই যারে ভালো বলে, যারে বলে উন্নতি,
তার পেছনে ছুটে, ভুলে যাই অনুভূতি,
ভালো থাকা হয়তো হতো বা বড়োই সোজা
বসন্তের বিকেলে পলাশের রং খোজা।
বিলের ধারে বসে, শীতল হওয়ায় ভেসে,
গোধূলির রং মেখে ভালো থাকা ফিরে আসে।
সকালের পান্তা ভাত, কাঁচালঙ্কার সাথে,
পেঁয়াজ কুচি, আলুভাজা সুখ খোঁজে কেউ তাতে।
কেউ আবার আহ্লাদে, লবণ মিশিয়ে ভাতে,
খুঁজে পায় সুখের স্বাদ, চারা গাছের আলেতে।
কেউ গাড়ি চড়ে ক্লান্ত, কেউ পায়ে হেঁটেই শ্রান্ত
কিছুতেই নেই সুখ, মন চরকি ঘোরে অনন্ত।
চাওয়া হীন কাজে পাওয়া শান্তি করে বরণ,
ভাগ্যবান সেই যে খুঁজে পায় আপন এ ধন।
কিন্তু বিপত্তি তখনই আসে, লোকে দেখে যেই হাসে,
“ তুই কত দুঃখী রে! পোড়া কপালে কি যে আছে?”
সেই ছোট ছোট সুখগুলো ম্লান হয়ে মাটি ছুঁলো
সহজতা যাই ভুলে, অন্যের দিশায় ছুটি চলে।
আর ছুটতে ছুটতে কখন হারিয়ে ফেলি নিজেকে,
ভালো থাকার মানে তখন ডুবে যায় মনের পাকে।
অথচ, সুখ ছিল, ভেবে দেখ, সুখ তো কাছেই আছে
শুধু ভালোবেসে চাইলেই ধরা দেয় অনায়াসে।