সে ছিলো ভোরের প্রথম কুয়াশা,
যে ছুঁয়ে যেতো হৃদয়ের ঘাসফুল।
কখনো স্বচ্ছ শিশিরবিন্দু,
কখনো মেঘের চাদরে হারিয়ে যাওয়া আকাশ।

সে ছিলো বসন্তের দখিনা বাতাস,
যার ছোঁয়ায় ঝরে পড়ে শিউলি ফুল,
ফিরে আসে আবার— সুবাস ছড়িয়ে,
তবু ধরা দেয় না এক মুহূর্তও।

সে ছিলো নদীর চঞ্চল ঢেউ,
যে এসে ছুঁয়ে যেতো পায়ের পাতা,
তারপর ফেরত যেতো উদাসী স্রোতে,
কোথায় হারিয়ে যেতো, কে জানে!

সে ছিলো পূর্ণিমার সাদা আলো,
যে জানালার ফাঁকে উঁকি দিয়ে
ঘুম ভাঙাতো, চোখে জড়িয়ে যেতো,
তারপর হারিয়ে যেতো গোধূলির মতো।

সে ছিলো শরতের নীল আকাশ,
যার দিকে তাকিয়ে হারিয়ে যেতাম,
যেন এক অচেনা স্বপ্ন,
যার শুরু আছে, শেষ নেই।

সে ছিলো আমার, অথচ আমার ছিলো না,
সে এসেছিলো ঝরাপাতার মতো,
নীরবে পড়েছিলো হৃদয়ের উঠোনে,
তবু রয়ে গেছে, এখনো, চিরকাল!