জগতের যত মৃত পুঁথি, অবলোকন এবং
অনুধাবন উত্তর বসে আছি আজ হস্ত শূন্য।
"রূপকথা,
উপকথা_
বাক, বুলি, গৎ, বাধা,
শ্লোক, ধাঁধা_
প্রবাদ, প্রবচন,
রম্য, প্রহসন_
গদ্য, পদ্য, প্রবন্ধ,
ছড়া, কবিতা, গান, ছন্দ"
সর্বোপরি সাহিত্য অঙ্গনে হাঁটিতে আজ পদযূগলে
ব্যথা সঞ্চারিত। তথাপি, সঞ্চয়ের খাতা শূন্য।
বিজ্ঞানকে স্বজ্ঞানে অন্তস্থে সঞ্চার
করতে গিয়ে হৃদয় যন্ত্রনা বেড়েছে বহুগুন;
হুতাশীন ভিক্ষুকের মত হতাশ অবয়বে শূন্য থলে কাঁধে ঝুলায়ে
মারাইছি বহুপথ, প্রান্তর, পাহাড়, সাগর এবং মরুভূমি জীবন।
কোথাও ঠাঁই মেলেনি,
হেঁটেছি একাই হেসেছি চেপে যাওয়া ক্রন্দন মিশ্রনে
দর্শন, যুক্তি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষ শাস্ত্র, রাষ্ট্রজ্ঞান বক্ষে
ছাপিয়ে আমি পথ প্রান্তর মুখরিত করেছি মিছিলে, স্লোগানে।
তবে হেরে গেছি দরকষাকষির খপ্পরে।
আর বলেছি বৃথা অজুহাতে, "শালা, সবখানেই দালালি;" অর্থনীতিতে হাল চালায়ে, অবশেষে দিনমজুর ভাব আর কৃষিতে
উৎকণ্ঠা আমাকে কিছুই দেয়নি, কেবল ব্যাথা একফালি।
একসময় অনিকেত, তারপর অযোধ্যা,
আবার কখনো অরিন্দ্র সেজেছি কিন্তু লভ্যাংশ শূন্য;
ভূগোলের বিশেষ টান আমাকে পাগল বানিয়েছিল, নাকে দড়ি
দিয়ে ঘুরিয়েছে দিগ্বিদিক। করেছে অপূর্ণ।
"অবশেষে ঠাঁই,
মিলিল যে হায়,
এই বঙ্গে
মায়ের কোলে।
হেথা দিন আসে যায়,
পথিক ভেসে বেড়ায়,
সময় কেটে যায়,
শুয়ে বঙ্গ মায়ের কোলে।"
বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে এসে, ঠাঁই পেয়েছি অবশেষে।
শিক্ষিত হতে গিয়ে,
চরম হতাশে দীক্ষিত হয়েছি অবশেষে।
ধিক্কার পেতে পেতে,
অযাচিত ধাক্কায় মানুষ হয়েছি অবশেষে।
চরম উল্লাসে,
খাতা গুটিয়ে শূন্যের সব হালখাতা করেছি অবশেষে।
ফকির বেশে, আর কতকাল?
আমীর হয়েছি অবশেষে।