কিরে সুস্মিতা! ভুলে গেছ?
যেতেই পারো, তুমি তো এখন অন্যত্র বিবাহিতা,
এই ধর্ম, সমাজ, রীতি তোমাকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
আমি নই, তুমিও কি স্বেচ্ছায় করেছ?
নাকি বাধ্য হয়েছ? বলো না! জানতে খুব ইচ্ছে করে।
এইত সেদিন না তুমি-আমি একসাথে চা খেলাম
মেঠো পথে টঙের দোকানে বসে?
মনে পড়ে? এটা না হয় ভুলে যেতেই পারো,
সেখানে তো আর যাওয়া হয় না তোমার, তাই।
তবে তোমার বাড়িতে বসে যে নিজ হাতে চা করে খাওয়াতে,
সেটাও কি ভুলে গেছ? না, সেটা ভুলতে পারো না।
তোমার বাসার নরম সোফাটা এখনো মিস করি;
তোমার পোষা বিড়ালটাকেও খুব মনে পড়ে।
জানো? মাঝেমধ্যে তোমার বিড়ালকেও হিংসা করতাম,
কারণ ও তোমার খুব কাছে যেত,
যতটা কাছে যাওয়ার স্বপ্ন আমার ছিল।
কী পাগল ছিলাম আমি! তাই না?
দেখেছিলে? তোমার শালিকটা যখন মারা গেল,
তোমার সাথে আমিও কী অঝোরে কেঁদেছিলাম!
তোমার কষ্ট আমার একেবারে সহ্য হতো নাহ্।
তুমি কি এখনো আগের মতো এগুলো পোষো?
নাকি সব ছেড়ে কেবল অন্য কাউকে বুকে পোষো?
জানতে বড় ইচ্ছে হয়, খুব ইচ্ছে হয়।
ও ভালো কথা, দাদীর কথা অনেক দিন জানা হয় না।
তিনি কি বেঁচে আছেন? জানিয়ো কিন্তু।
দাদীর সাথে তুমিও পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে ফেলতে,
মৃদু বকা দিতাম দাঁত নষ্ট হয়ে যাবে বলে,
কত খুনসুটি হতো দাদীকে নিয়ে! সত্যিই মিস করি।
দাদীকে আমার সালাম দিও জীবিত বা মৃত।
ও আরেকটা কথা, তুমি কি এখনো-
কোমলপানীয় খাও খুব পাগল হয়ে?
কেউ কি বকা দেয় তোমার ক্ষতির কথা ভেবে?
কত বকা খেতে তুমি, তাই না?
এত বকা হয়তবা অন্য কেউ দেয় না তোমাকে।
কী আজব পৃথিবী! কার মানুষকে আমি বকা দিতাম,
কিন্তু তুমি কার আবার? আমার ছাড়া কার?
সে তোমাকে আগে বিয়ে করতে পারে,
কিন্তু ভালো তো আগে আমিই বেসেছি তোমায়!
তবে প্রকৃতি জানান দিক তুমি কার।
না সুস্মিতা, এসব নিয়ে তোমার সাথে আর দ্বন্দ্বে জড়াব না।
ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে জঞ্জাল করার বয়স নেই এখন।
এখন অনেককিছু বুঝি, কীভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়,
কেন এত আগে এলে মম জীবনে? আরেকটু পরে আসতে,
তাহলে হয়ত আজ পাশে থেকে যেতে।
ভালো কিছু জীবনে সত্যিই অসময়ে আসে।
তোমার-আমার অবুঝ পাগলামি আজ বোকামি মনে হয়।
কাউকে আটকিয়ে রাখার জন্য অধিকার প্রয়োগ নয়,
স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে হয়।
আমি এখন সব জানি সুস্মিতা!
শুধু তোমাকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই!
রচিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৪; সোলাই-১৮, আল-মাশায়েল, রিয়াদ, সৌদি আরব।