রাতে ঘুম আসেনি। কতকগুলো প্রশ্ন কাঁটার মতো
বিঁধেছে গলায়। সারারাত কেটেছে অনিদ্রায়।
ওই যে কার যেন পদধ্বনি শুনি। কি জানি, এদিকে
আসছেন কি বাবুমশাই?
সত্যি তাই। এইতো বাবুমশাই। তাকে এখনি সেই
প্রশ্ন করি, যদি সঠিক উত্তর পাওয়া যায়।
জিজ্ঞেস করেছি তাকে, ‘বাবুমশাই, এখন এ দেশে
রাজা, মহারাজা, জোতদার, জমিদার নেই আর।
জনগণও বুঝেছিল তাদের আর নেই দরকার।
রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়েছে কালের স্রোতে। এমন কত
কী তো ঘটে!
আজ জানতে ইচ্ছা করে সেটি বিলুপ্ত হওয়ার আগে
জোরদার, জমিদাররা তাদের বিষয় সম্পত্তি রক্ষায়
পুষতো তো লেটেল বাহিনী। যতদূর জানি, এছাড়া
তাদের ছিল না কোনও উপায়।
বাবুমশাই, শুনেছি প্রজাদের সুখ স্বাচ্ছন্দের প্রতি
শাসকদের অনেকেরই ছিল না দায়।
প্রজাদের ঘাম ও রক্ত ঝরানো উপার্জিত অর্থে
শাসকদের গোলা ও কোষাগার ফুলুরির মতোই
ফুলে উঠতো।
সেই থেকে খরচ হতো লেটেলদের ভরণপোষণের
অর্থ। বাদবাকি? শাসকদেরই থেকে যেতো।
তাদের কারো কারো নাকি আকাশচুম্বী স্বপ্ন ছিল,
ভোগ বিলাসিতার কথা নাই বা বলা হলো।
কেউ কেউ চাইতো জনগণের ঘাম রক্তের বিনিময়ে
উপার্জিত অর্থগুলো জনহিতে ব্যয় না করে তাদের
সাম্রাজ্যকে গড়তে দৃষ্টিনন্দন ভূস্বর্গ।
বাসনা পূর্ণ করতে তারা তাদের লেটেলদের নিয়ে
জনগণের মাথার উপরে তুলে ধরতো অত্যাচারের
খড়গ।
বাবুমশাই, সেই বাহিনী ছিল তো শাসকদের প্রজা,
তাদেরি আজ্ঞাবহ। জানতে ইচ্ছা করছে তারা কি
বাদবাকিদের সুরক্ষায় ও জনহিতে যথেষ্ট সময়
দিতো?
শুনেছি বৈদেশিক শত্রুদের আক্রমণে সেই সময়
দেশে যত রক্ত ঝরতো, স্থানীয় শাসক ও তাদের
লেটেলদের অত্যাচারে প্রজাদের রক্তে নাকি তার
চেয়েও বেশি রক্ত স্রোতে ভাসতো।
একথা যদি সত্যি হয়, বাবুমশাই, এখন রাজা,
মহারাজা, জোতদার জমিদার নেই। রাজতন্ত্র ও
স্থান পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
বাবুমশাই, তবে কেন আকাশটা ঢাকছে ঘন
কালো মেঘে। নিন্দার ঝড় উঠছে চারদিকে।
বলছে অনেকেই, ‘শাসক একই থাকলো নাকি
বদলালো তাতে জনগণের কি বা আসে যায়,
যদি না শাসকের চরিত্র বদলায়। লেটেলদের
নাম ভিন্ন হলেও জনগণের কি আসে যায়?’
জোতদার জমিদার ও তাদের লেটেল বাহিনী
প্রজা-কল্যাণেই কাজ করলে কি শাসকদের
আজ এই পরিণতি হতো?
বাবুমশাই, শাসক বদলালো ঠিকই, যে প্রশ্নটা
মনে দিচ্ছে উঁকি, ‘শাসনযন্ত্র বদলালো কি?
শাসক কতটা কাজ করছে জনহিতে?