সেই উচ্চ আদালতে কখনো ন্যায় পাওয়া যায় না
আমারই হৃদয়ের রক্ত দিয়ে আইনগুলোকে
রঙিন করতে হয়
সেখানে যে বিধি জন্মে, আর শাসনে
যে কঠোর কালো রঙের ফরমান জারি হয়
তা আমারই টুকরো টুকরো স্বাধীনতা, যা জমে শিকল হয়েছে
প্রেমগুলোর বিচার হবে, দণ্ডে ভাঙতে হবে,
তারপর নিষিদ্ধ করতে হবে
যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের রূপ হবে
মধ্যযুগীয় তালিবানের চিন্তার মতো নিষ্ঠুর শ্বেতবর্ণ
ধর্মান্ধতার বিকৃত বিচারে নিষ্ঠুর শ্বেতবর্ণ

কে রাত না পোহাতেই কাঁদে?
কে আইনের ভয়ে ভালোবাসা ঢাকে?
কে প্রেমের বোঝা নিয়ে ভীত হয়ে হাঁটে?
আর কেই বা নুরজাহানের মতো মাটিতে মিশে যায়?
কে স্বপ্ন বপন করে?
আর তার বিনিময়ে যা পায়, তা হ'লো
পাথর, কড়া হুকুম, ধর্মের খোলস,
ছিন্নভিন্ন ভালোবাসা, নতুন আইনের পাতা?
আর এরপরেও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়
ফতোয়া আর মৌলবাদের আঘাতে
কে সেই মানুষ?
কে মনের খেতে ভালোবাসা বোনে?
আর সারি সারি স্বপ্নগুলোতে
আশার আলো জ্বালায়?
কে সেই মানুষ?
কে উচ্চাসনে বসা বিচারককে ক্ষমতা, অহংকার,
পুরুষতন্ত্রের অস্ত্র দেয় আর
পাথরের নিচে চাপা দেয়
প্রেমিকাদের কোমল হৃদয়?
কে ধর্মকে ঢাল করে
তাকে রাতারাতি বিকৃত করে
মস্তিষ্কে বিষ ছড়ায়?
-কে সেই মানুষ?
তাদের জিজ্ঞাসা করো
যে পাখিরা মুক্ত আকাশে ওড়ে
যে নদীরা অবাধ গতিতে
এদিক ওদিক বয়ে চলেছে
যে হাওয়া এই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে উড়ে বেড়ায়
তারা সকলেই উত্তর দেবে
ঐ অন্ধ বিচারকটি-
যে দিনরাত ধর্মের নামে অন্যায় করছে।
আহা!
আমাকে অন্তত ঐ স্বাধীনতার চূড়োয় উঠতে দাও
সেখানে বসে আমি শ্বাস নেব
মুক্তিযুদ্ধ থেকে যে স্বাধীনতা বয়ে বয়ে আসে;
আর সত্যের মধ্যে আমি নিশ্চয়ই বুঝে যাব
আমি একজন স্বাধীন মানুষ
আমার জন্যেই এই দেশ।