এক পাশে দুই দুইটি স্কুল
গ্রামের বাতিঘর
সামনে বিশাল মাঠ
পশ্চিমে কোণ ঠেশে তিন তিনটি কাচারি ঘর।
ভোরে মক্তব আর লজিং মাস্টার
কড়া শাসনেও অপূর্ব
শৈশব কৈশোরের ছেলেবেলা।
উত্তর কর্ণারে প্রাচীন ঈদগাহ
চুনসুরকিতে বাঁধাই
বছরে দু'বার ইদ নামাজে
করি মোলাকাত গ্রামের সবাই।
পাশেই শান বাঁধানো ঘাট
কত বড় দিঘী।
এপারে বসে ওপারে কাউরে না চিনি
এমন দিঘিতে সাঁতার কেটে বহুবার দিয়েছি পারি
খেলেছি কতশত ডুবানি চুবানি খেলা।
বাঁশের মাথায় আহার গেঁথে
বড়শিতে মাছ বঁধে
দুই তিন দিন পুকুরে খেলা করে
কত বড় বড় মাছ উঠেছে উঠানে।
বটবৃক্ষে শীতল হাওয়া
পথচারী আর অতিথি
খুঁজে ফিরে শান্তির ছায়া দখিণা সমীরণে।
উড়ে এসে হরিকল ঝাঁক
ডালে ডালে বেড়ায়, বটফলে আহার খোঁজে
কুকিল ডাকে কুহ কুহ তান।
এমন মধুর সময় কেটেছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে
বটতলায় শরীর জুড়িয়েছে নিবিড় স্পন্দনে।
চৈতালী হাওয়ায়
বটের শুকনো পাতা কুড়িয়ে কুড়িয়ে
চুলো জ্বলছে কত জনের সকাল দুপুর রাত।
শুকনো পাতা কুড়ানোর
বিচার ই বা হয়েছে কত!
ভোরের আলোয়ে সবুজ মাঠে
শিশিরে পা ভেজানো আর
পূর্ণিমা চাঁদে যেন মুক্তো হাসে এমন মাঠে
শত সহস্র স্মৃতি আজও মনের পটে ভাসে।
স্কুল শেষে ছুটির কালে
এমন মাঠে কেটেছে অতীতের সব আনাগোনা।
ঘামে ভেজা বিকেল
আস্ত বড় মাঠ ফুটবল ক্রিকেটে ছিল জমজমাট।
শৈশব কৈশোর আজও খুঁজে ফিরে
বটবৃক্ষ আর আস্ত বড় মাঠ
সেই দীঘি আর পুরানো ইতিহাস।
পাঠাগার পোস্ট অফিস
সবই ছিল বাড়ির ফটকে।
পারিবারিক কবর, পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি
এত সব আয়োজন স্মৃতিতে মন্থর!
মেঘনার কোলে।
এত বড় বাড়ি এত মানুষ জন
আজ কে কোথায় আছি ক'জন!
রচনাকাল:
ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৫