অতঃপর যখন সন্ধ্যা নামে,
মেঘ হয়ে ভেসে যাওয়া ধোঁয়া
সুনীল আকাশে, গোধুলির লাল আভায়
রক্তিম সূর্যের শেষ আলোটুকু যখন
গায়ে মাখে; আমি অবাক তাকিয়ে রই,
কতগুলো কালো কাক উড়ে উড়ে,
ঘুরে বেড়ায় অনন্তে, অসীম আনন্দে
ঘুরপাক খেতে থাকে বৃত্তের মতো,
আমি গুনতে থাকি, ক'টা কাক
খেলায় মেতেছে।

আমি একা বসে দেখি, কেউ নেই
কাকগুলো দেখার।
হয়তো অনেকেই দেখে,
অবচেতনে কেউ মনে হয় না
দেখেছে কাকেদের খেলা।

হয়তো কাকই দেখেনি;
দেখেছে শুধু অন্ধকারের আগমন বার্তা।
ব্যস্ত সবাই, ভারত-পাকিস্তান,
কে জিতবে খেলায়?

তবু আমি দেখি, ক'টা কাক
শান্তির খেলায় মত্ত।
এ খেলায় কেউ জিতে না,
হারের অপমান নেই।

তবু আছে শুধু অসীম আনন্দ,
আর কিছু সন্ধ্যের শুভেচ্ছা বাণী।
শুধু আমি দেখি, বিন্দুর মতো
ভেসে বেরায় ক'টা কাক।

কেননা আমার মতো কে দেখবে,
বিন্দু সদৃশ কাকের খেলা?
হয়তো চোখের পাওয়ারই নেই!
বিষাক্ত রশ্মি কেড়ে নিয়েছে সে ক্ষমতা!

অবশ্য আমি দেখি কাকের খেলা,
ঐ যে,
অন্ধকারাচ্ছন্ন কুচকুচে কালো রঙের -
আকাশে ডানা মেলে ভেসে যায়;

মাঝে আযানের ধ্বনি শুনি,
সুরের মূর্ছনায় হৃদয় রাঙিয়ে।
যেন দৃশ্যের সাথে অডিও -
এক অদ্ভুত ভালো লাগা।

আজানের ধ্বনি শেষ হয়,
দৃশ্যেরও ইতি টানে কাক,
ভাসতে ভাসতে তারা মিলে যায় মেঘগুলো সাথে নিয়ে,
অবশ্য এই মিলিয়ে যাওয়া তো আপেক্ষিক!

নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।
সৌন্দর্য দেখার কেউ নেই যে!

কাক ছিল না?
কাকই তো মনে হলো -
না, আমি মনে হয় কাকই দেখেছি,
অন্তত কটা পাখি!


(লেখা হয়েছেঃ 18:12 - 23.10.2022)