আড়ি

বৃষ্টি এলো দৃষ্টিটাকে ঝেঁপে
টাপুর টুপুর মরচে ধরা
টিনের চালটা কেঁপে;
আসলো হাবাস বাতাস মেঘের সাথে
আমি যখন জেগেছিলাম রাতে
তোর কি বেটা তাতে?
আমি কি তোর কাপড়ে না ভাতে?
হাভাতে তুই তাকাস কেনো?
জানলাটা তাক করে?
বৃষ্টি প্রহর জাগছি আমি
বৃষ্টি নিশির ঘরে।
আমি কি আর তোকে দেখি?
দেখি শুধু বৃষ্টি পাতায় বিজলি চ্ছটায় মেঘের ছোটাছুটি
যেমন করে কদম গাছে ফুল রয়েছে ফুটি।
তুই তো শুধু এদিক সেদিক তাকানোরই ভান
ভান করে তুই দেখছো আমায়
শুনছো আমার গান।
ঝড় বাতাসে মনের কথা পাঠাও শুধু লিখে,
ওসব দেখা, ধেততুরিকা!
আমি তাকাই কদম গাছের দিকে।
তাকাস না আর-
বাবা দেখলে হবে হুলুস্থুল;
আচ্ছা! যদি দিতে পারিস ক'টা কদম ফুল
রাতেই আমায় পেড়ে
বৃষ্টিস্নাত করে এবং ভগ্ন জানু গেড়ে
কান কুন্তল দুলিয়ে নেবো
তোর দেয়া সেই দুল,
ছড়িয়ে দেবো জড়িয়ে নেবো
বৃষ্টিভেজা চুল।
বাসবো ভালো, হাসবো আসবো কাছে
থোড়াই কেয়ার করবো সেসব
যে যা বলুক পাছে।
শুনছো কথা? হাম্বু-পটাশ
শুনছো বলছি কি?
বাববাহ!
জানলা ধরে কে দাঁড়ানো হায়!
তুই? না, তোর বাপি?
ফিরে দেখি এদিকটাতেও
আড়ি পেতে আপি,
এইটুকু ঘর বৃষ্টি মুখর
কোথায় রাস্তা মাপি?

-মাসুদ আলম বাবুল
১৬.৬.২০ সবুজবাগ, পটুয়াখালী।