হাজারো ফুলের সমারোহে পরিপূর্ণ উদ্যান সারাটি বছরজুড়ে,
পুস্পস্তবক বাগান ভরেছে সেসব উদ্ভিদে।‌
ভালবাসার স্মারক হরেক জাতের গোলাপ,‌
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা,
সুশোভিত পদ্ম,
রাজনীগন্ধা, সূর্যমুখী, গাঁদাফুল,
বেলী, চাঁদনী, মালা, কুটজ,
বকুল, সজিনা, জবা, চাঁপা, মালতী,
স্যালেশতা, চম্পা, অর্কিড, অশোক,
শেফালী, কনক, পলাশ, শিমুল,
ড্যাফোডিল, চেরি, ক্যামেলিয়া, ম্যাগনোলিয়া
হাসনাহেনা, টগর, কৃষ্ণচূড়া,
কেয়া, করবী, জুঁই, কদম,
অপরাজিতা, অতসী, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা,
এবং আরো অসংখ্য ফুলেভরা এই রাজ্য।

লেফট্যানেন্ট জেনারেল
একজন তিন তারকা সেনা অফিসার,  
এই বাগানের প্রধান মালী — চিফ গার্ডেনার,
এক এক করে এইসব কিছু ফুলের নাম তিনি বলে দিলেন।
এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান;
শহীদ সেনা পুষ্পোদ্যান।

স্বাধীন-সার্বভৌম-স্থিতিশীল বাংলাদেশকে যারা
বাকশাল করে শত্রুদের হুকুমতে তুলে দিতে তৎপর ছিল,
তাদের সেইসব ষড়যান্ত্রিক তৎপরতার গণহত্যায় শহীদ
সাতান্ন সেনা কর্মকর্তা
তারা শায়িত হয়েছেন এখানে
শহীদ সেনা পুষ্পোদ্যানে।

ষড়যন্ত্রকারী শত্রুদের নীলনকশার চিত্রে,
বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমান এবং পুলিশ বাহিনী,
সামরিক, অসামরিক এবং গণ' প্রতিষ্ঠানসমুহ।
প্রথম আক্রমণ তৎপর হয় বাংলাদেশ রাইফেল্সে—
যেখানে তাঁরা ঐ সাতান্নজন দায়িত্বরত ছিলেন,
তাঁদের হত্যা করা হয় দুইদিন ধরে তৎপর অশৃঙ্খলতায়—
নক্ষত্রদের মৃত্যু হয়।‌
ছয়দিন ধরে চলে এই বিদ্রোহ।
আরো শহীদ হয় সতেরজন অসামরিক মানুষ।

অতঃপর তারাখসা বাংলাদেশ যেন হয়ে যাক এক উদ্ভট জনপদ,
অদখল হউক একে একে সব বাহিনী ও প্রতিষ্ঠান।
দুইদিন ধরে চলমান উশৃঙ্খলার চাদরে মুড়ে
সাতান্নজন সেনার আত্মদানে রচিত হয়েছে এই গণহত্যা।
তাঁদের প্রতিরোধের শাসন ও আত্মদানের নিয়ন্ত্রণে,
প্রতিরক্ষা ব্যূহের প্রথম প্রতিরোধ
সফলভাবেই তা রচিত হয়েছে।‌

কিন্তু বাকশালীদের ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা কখনো থেমে থাকে না।
বাকশাল বেনিয়াদের দস্যু, লুটেরা,
নিপীড়ক, ঘাতক, দুষ্ট আওয়াম।
ভেবেছিল এই গণহত্যার পথ ধরে এগিয়ে যাবে চির উত্থানে‌
অপরাধের সম্মোহনে।
কিন্তু এখন-আজ-প্রতিদিন বাকশাল পরাজিত, পলাতক, নিরুদ্দেশ।

আবারো টিকে গেল বাংলাদেশ!
স্বীয় রাষ্ট্র স্বগৌরবে!
যারা জীবন দিয়েছে, শহীদ হয়েছে,
দক্ষ-চৌকস, মেধাবী ও পরিশ্রমী সেনাগণ।
আজি শহীদ সেনা দিবসে তাদের‌ পুষ্পোদ্যানে—
এই বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ তাঁদের জন্য।