সেদিন আমার ঘরে এল চোর
কবে যেন চুপিচুপি,
নিয়ে গেল ঘড়ি আর ফুলদানি
এবং আমার টুপি।

শখের জিনিস ফিরিয়ে আনতে
খুঁজেছি অনেক তারে,
পাইনি কোথাও খুঁজেছি বাজারে
পথে ঘাটে কারাগারে।

নিরুপায় হয়ে থানায় গেলাম
প্রধানের কামরাতে,
চেয়ে দেখি ঠিক আমার ঘড়িটা
পরা আছে তার হাতে।

বললাম অ্যা- দুঃখিত স্যার
চুর খেয়েছে কি ধাওয়া?
আপনার পরা ঘড়িটা আমার
বাপ-দাদা হতে পাওয়া!


কথাটা শুনেই রাঙ্গালেন চোখ
ডাকলেন যেন কারে,
দিলেন আদেশ ঢোকাতে আমায়
একা এক কারাগারে।

বছরেক পরে ছাড়া পেয়ে ভাবি
কাজীর নিকটে যাবো,
চোর-পুলিশের কথা বলে দেখি-
হয়তো ন্যায়টা পাবো।

গিয়ে দেখি মোর ফুলদানিটাই
কাজীর টেবিলে রাখা,
চিনেছি- কারণ আলপনা ছিল
আম্মুর হাতে আঁকা।

বললাম- স্যার, সামনে রাখা এ
ফুলদানিটা আমার,
আমার বাড়িতে চুরি করা চোর
হয়েছে কি গ্রেফতার?

আমার কথায় সকলে নিরব
কাজী দিল জোরে হাঁক,
কোথায় প্রহরী ধরে নিয়ে একে
পাগলা গারদে রাখ্।

বছর দুয়েক পরে আচমকা
মনে পড়ে গেল আরে!
আমি না ছিলাম অভিযোগ নিয়ে
কাজী সাহেবের ধারে!

সাথে সাথে আমি দৌড়ে গেলাম
রাষ্ট্রপতির কাছে,
বলেছি কাজীর পুরো ঘটনা ও
আরো যত কথা আছে।

মুচকি হাসিতে বললেন তিনি
মনে হয় যদ্দুর,
বলবি আমার মাথায় পরা এ
টুপিটাও কি না তোর।

চেয়ে দেখি ঠিক আমার টুপিটা
রেখেছেন তিনি পরে,
আর কোন কথা না বাড়িয়ে আমি
চলে আসি ফের ঘরে।

বুঝেছি আমি ও আমার যা কিছু
রাষ্ট্রপতিরই সব,
"আমার ঘরের চোর তো আমিই"
তাই করি অনুভব।