মা, ‘ও-মা”
দ্যাখ দ্যাখ আমি এসেছি
তোর জন্যি সূর্যের হাসি নিয়েই
আমি এসেছি।
তুই না বলেছিস, “খোকা-
এই তোকে বর দিলাম
সূর্যকে নিয়েই ফিরবি।”
দ্যাখ মা দ্যাখ
তোর সূর্য নিয়েই
আমি এসেছি।
কি রে মা!
তুই কথা বলিস না কেন?
কি হয়েছে তোর?
ও বুঝতে পেরেছি!
আমি ছিলাম না বলে
তুই রাগ করেছিস, তাই না?
বলতো কেমন করে আসি
পণ করেছি যে-
সূর্যকে নিয়েই ফিরবো
এই মা, কথা বল না!
তোর খোকাকে তুই আদর করবি না
কোলে তুলে নিবি না
দিবি না কপালে চুম।

জানিস মা, তোর সূর্যকে আনতেে
আমার অনেক কষ্ট হয়েছে
ওর তাপে আমি প্রায়
পুড়েই গিয়েছিলাম
মনে হচ্ছিল আমি আর তোর কাছে
ফিরতে পারব না
এই বুঝি আমি শেষ...
কিন্তু তোর বর
হঠাৎ মনে পড়তেই তো
আমার সাহস বেড়ে গেল
লক্ষী মা!
আর চুপ থাকিস না
তোর মুখে কথা ফুটানোর জন্যই তো
সূর্যকে নিয়ে আসা।
এই নে তোর সূর্যকে
নিয়ে আমাকে রক্ষা কর-
কি নিবি না? এখনো তোর রাগ পড়েনি?
বলতো কী করলে তোর রাগ পড়বে?

মা, “ও-মা”
ধরতেই ঢলে পড়ল মাটিতে
ঠাণ্ডা শরীর
এ কি মা?
মা...মা...মাগো
তুই ও কি আমাকে ফাঁকি দিলি
তোর জন্যি আনা সূর্যটিকে
এখন কী করবো?

হে সূর্য!
এ তোর কেমন আলো
যে আলোতে ঝলছে গেল আমার মা।
রক্তের বন্যায় রঞ্জিত হয়েছে আমার ভাই
তবে আমি কেন বেঁচে রইলাম এ ধরায়?