এক অদ্ভুত বৈরাগ্য ক্রমে নেমে আসে
এবারের বইমেলায়। কবি-সাহিত্যিকদের উপস্থিতি কম;
ম্যারম্যারে আবহাওয়া, কবিদের আনন্দ-উল্লাসে
কাব্যের মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে না এবার হরদম।
বৈধব্যের শোকগাথা বিস্তারিত এই লিটলম্যাগ চত্বরে,
তুমুল আড্ডার হাস্যমুখরতা নেই;
বিজলিবাতির অনুজ্জ্বল আলোগুলো চুপ করে
চেয়ে রয় সকাতর চোখে, কবি ঝিমুচ্ছে নিজেই।
সেজেগুজে দলবেঁধে যুবক-যুবতী আসে, প্রতিদিন দেখি-
"আমা"র দোকানে ভিড়, কেমিক্যাল কফি খায় তারা।
তারপর, কোলাহল শেষে হাত ধরে চুপচাপ ফিরে। এ কি!
কাব্যকথা-উপন্যাস, প্রবন্ধের কোন বই কেনাকাটা ছাড়া।
একুশের বইমেলা জুড়ে
গ্রাফিতির লালরঙে, পোস্টারে পোস্টারে ছড়িয়ে গেছে;
কোন কোন লেখকের লেখা অজানার আকাশে গিয়েছে উড়ে।
পুলিশেরা মোড়ে মোড়ে অলস দাঁড়িয়ে,
আর নজরুল চত্বরে লাঠি হাতে স্নায়ুরূপ কেদারায় বসে আছে।
নিষ্প্রাণ নিস্তেজ সব! এমন নিষ্প্রভ বইমেলা-
ঠাণ্ডা শীতের রাত্রিতে রাজকুমারীর অঘোর ঘুমের মায়া;
অথবা দুরন্ত কিশোরের নিঝুম দুপুরে একেলা মার্বেল খেলা;
কোথাও নেই একটুও আম-জাম, কাঁঠালের প্রশান্তির ছায়া।
ছন্নছাড়া বন্য যারা অশান্ত চঞ্চল,
আসে যায়, যায় আসে বোধহীন কৌতূহল ভরে;
পার্লারে সাজানো মুখগুলো মব-ভায়োলেন্সের পক্ষে
স্তুতিকথা বলে যায় অবিরল,
আর, 'কথিত ফ্যাসিবাদী'র পিণ্ডি চটকায় প্রফুল্ল অন্তরে।
কবি-সাহিত্যিকগণ মোবাইলের পর্দায়
সময় কাটায় শুয়ে-বসে আপনার গৃহকোণে।
এই পঁচিশের দারুণ বইমেলায়
এসেছিলাম একাকী শঙ্কিত হৃদয় নিয়ে, ভয়াতুর মনে।
১৪/০২/২০২৫
লিটলম্যাগ চত্বর, বইমেলা, সোহরওয়ার্দী উদ্যান।