তরী আমার চলছিল বেশ ভেঙে গেলো কাঠ,
ভাঙা তরী নিয়ে আমার নেই কোন ঠাট-বাট।।
বাহাদুরি করবো কিসে    চলছি ছুটে ঢেউয়ের বিষে,
সমুখ কেবল সাগর দেখি, দেখিনা সেই ঘাট।।

মাস্তুলে যে তীব্র বাতাস আঘাত হানে জোরে,
সেথা দেখি মাঝিরা সব পড়ছে ভীষণ ঘোরে।।
কেমন করে পুলিন খুঁজি    বাতাস সনে আমি যুঝি,
বলছি শুধু সবাইকে যে পালকে এবার কাট।।

কেটে দিলাম পালের দড়ি কিসে এবার চলি,
বাতাস আসে প্রবল বেগে তরী রয় উছলি।।
স্মরণ করি তাঁরে তেজে    গান গেয়েছি আমি ভেজে,
তবু দেখি থামেনা আর ছুটছে বাতাস বাট।।

এবার আমি বলি সবে ফেলতে তরীর পণ্য,
বাতাস আরো বেগে ছুটে লাগছে সবি বন্য।।
ধীরে ধীরে হালকা তরী    সাগর পথে ছুটছে ধরি,
তবু দেখি বেহাল দশা চলছে সেথায় নাট।।

কে দেবে রে ভরসা আর আমার তরীর বুকে,
এমন ঝড়ের কথা আমি শুনিনি গান তুকে।।
চারিদিকে অথই জলে    ঝড় উঠেছে মনের তলে,
খুঁজছি আমি পুলিন শুধুই বেঁচে থাকার ঠাট।।

বুদ্ধি করে বলি সবে ছেড়ে দিতে হাল,
চলুক তরী বাতাস বেগে যা হবে হোক কাল।।
চলছে তরী আপন বেগে    দেখছি সকল সবে জেগে,
ডুবে গেলে যাবো মরে চুকে যাবে পাট।।

এদিকে যে সলিল উঠে ভাঙা তরীর কোলে,
তখন আমার বোধ জেগেছে বুদ্ধি আমার খোলে।।
ডাকি তাঁরেই মনে মনে    সেঁচের কাজে আছি ক্ষণে,
বাতাস দেখি ধীরে কমে; কমতে থাকে ছাঁট।।

হটাৎ দেখি সমুখ পথে একটা পাহাড় চাই,
কাছে গিয়ে দেখি সবে কোন মানব নাই।।
তবু সবাই চড়ি পাহাড়    ডিঙ্গিয়ে দেখি আছে আহার,
সেখান থেকে খাদ্য পেয়ে ছুটি বনের হাট।।

ফিরে আসি আহার গিলে তুফান দেখি নাই,
জোড়া দিয়ে তরীর কাঠে নিলাম সবে ঠাঁই।।
বেঁচে থাকার সুখটুকু আজ    মেখে দিল বলেরি সাজ,
সকল বুঝে গেয়ে চলি ধাতার গানের গাঁট।।