পার্কের ভাঙা চেয়ারটায় বসে আমি চুপ।
শুধু দেখছিলাম—
মেঘের ভাঁজে জমে ছিল এক দলা থুতু,
বাঁশের কঞ্চির আগায় উড়ন্ত
এক টুকরো লালচে রোদ।

আমি কবিতা লিখতে আসিনি।
কেউ বলে ন্যাকামো, কেউ বলে পাগলামি—
কিন্তু গালির শব্দে যখন রক্ত জমে,
তখন কলমও ভোজালির  মতো ধারালো হয়ে যায়।

"স্কুলের মেয়েটার উরুতে আঁকা নোংরা নখের দাগ
কখনো কি ধুয়ে যাবে বৃষ্টির জলে?"
আমি প্রশ্ন করতেই
আমার মুখে উরে এলো কিল চড়, থুতু ,
সেই থুতুর ভিতর কি ফুটে ছিলো
শত শত বিষণ্ণ ফুল ?
তা জানি না,
কিন্তু আমার ছেঁড়া জামা,
আমার রক্তাক্ত ঠোঁট জানতো,
আর জানতো,আমার বিধ্বস্ত মাথার চুল।

থানায় গিয়ে  বলেছিলাম—
বৈঠকে বসে থাকা চেয়ার গুলো চুপ।
শুধু একটি কেরোসিনের বোতল ফিসফিসিয়ে বলেছিলো
"আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলো সব "

পরদিন, ক্ষুরধার নখের মালিক ছেলেটা শাসিয়ে গেল—
"তোর মুখে রড ঢুকিয়ে দেব!"
আমি তাকিয়ে রইলাম।
ভাবছিলাম—
রডটা যদি বজ্রপাতে গলে যায়,
তবে কি থেমে যাবে মেঘের গর্জন ?

পার্কের ভাঙা চেয়ারে বসে আমি চুপ।
ক্রমাগত মেঘের গর্জন,বিদ্যুৎ এর ঝলক ,
আমি চুপ
শুধু চোখের কোণে এক পশলা ঝড় জমে আছে।