বিষাক্ত
********
অনুমান করার কোন সাধ্য নেই
দেখে মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক
কিন্তু আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যায় ভিতরটা
প্রথমে টের পাওয়া যায় না নীরবতায়
একটা সময় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ
নিজেকে অনেক অভাগা মনে হয়
হঠাৎ একদিন মনে হয় মাথায় যেন হিমালয়
বুকের ভিতর গড়াচ্ছে আগ্নেয়গিরির লাভা।

বিষাক্ত ছোবল দূরে থেকে দে’য়া যায় না
যে মানুষগুলো বিষদন্ত ফোটায়
তারা খুব কাছের, আপনজন
অজান্তে নয়; বিষ প্রয়োগ করে পরিকল্পিতভাবে
আপনত্বের আদলে নিন্দা, অবহেলা, তাচ্ছিল্য
ভাল-মন্দ সবকিছুতে নাক ছিটানো অভ্যেস  
কথা বলার অবজ্ঞা এমন যেন-
আপনি নির্বোধ, কিচ্ছু হয় না আপনাকে দিয়ে।
আপনার নির্ভুল কাজেও ভুল খুঁজে পায় তারা
প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে সমালোচনার ঝড় তোলে
তবে এ সমালোচনা কোন গঠনমূলক নয়
অন্যের কাছে ছোট করার জন্য নিন্দা করা।

কথার মারপ্যাঁচে তারা শক্ত করে বেঁধে ফেলে
কথার জাদু এমন হয়; যেন-
সত্য-মিথ্যা, উচিত-অনুচিত, গোলক ধাঁধানো
নিজের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে যায়
ভালকে মন্দ, অশুদ্ধ কে শুদ্ধ মনে হয়।
তারা যে কোন মূল্যে দোষী সাব্যস্ত করে
পরিস্থিতি গড়ে তোলে নিজের সুবিধা মত
মতমত বা সিদ্ধান্তকে তাচ্ছিল্য করা,
সন্দেহ পূষণ করে ভাল কে মন্দতে বদলে দেয়া,
প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি ভুল; প্রমাণ করার চেষ্টা।
একটা সময় গনিয়ে আসে
সবকিছুর সত্যতা যেন তাদের কথাতেই
আপনি যা ভাবছেন, যা করছেন
তাতে সবসময় সংশয় জাগে
হারিয়ে যায় নিজের অস্তিত্ব, সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিত্ব
নিশ্চিত বিষয়ও ভুল প্রমাণিত হওয়া শুরু করে।

চলমান বিষক্রিয়া আরও গভীরে নিহীত হয়
তখন সব সমস্যার জন্য শুধু আপনি দায়ী
অসুস্থতায় বা স্বাভাবিক কারো মৃত্যু হলেও
তার জন্যও দায়ী আপনি
আপন কোন মৃত্যু শোক ভূলে আপনি যেন মমি।
কোন সমস্যার দায় ভার তাদের নেই
মন্দ যা কিছু ঘটে-
তার জন্য শুধু আপনিই দায়ী।
তারা কোথাও অসম্মানিত বা অবহেলিত হলে
তার দায়ভারও আপনার।

বিষাক্ত মানুষ কখনও নিজ দোষ স্বীকার করে না
মন্দগুলো আপনার; ভালকিছু তাদের ভাগ্যফল
সব সময় চলবে আপনার অনুভূতি নিয়ে খেলা
আপনার ক্ষুধা, অসুস্থতায় কিছুই হয় না তাদের
আপনার কষ্টভরা কান্নাতে তারা খুশি হলেও
আপনার মুখে হাসি দেখলে কারণ খুঁজবে।
আপনার চরম অসহায়ত্বের মাঝেও
তাদের মনে বিন্দু পরিমাণ মায়া জন্মাবে না।
তারা কখনও আপনার ভাল’তে স্বস্তি পাবে না
অর্জন, সাফল্য দেখে আনন্ন্দিত হবে না
বরং কানাকানি ও ঠাট্টা করে দ্বিচারিতা দেখাবে।

তাদের মনের আকাশে আলো-মেঘের খেলা
প্রয়োজনে খুব মিষ্ট, প্রয়োজন শেষে ঝাল-তিতা
সময়ে বিলিয়ে দেয় নিজেকে, অসময়ে অচেনা
এই অস্থিরতার মানসিক চাপ থাকে সবসময়
কর্ম, সাফল্য, জীবন, সংসার সব মুছে যায়
এ এমন এক মানসিক অস্থিরতা
যা হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতা, পাগল করা অস্থিরতা
কারণ- তারা আপনারই আপনজন, আত্মার।
এক সময় রটিয়ে দিতে দ্বিধা নেই তাদের
আপনি ভারসাম্যহীন কিংবা নার্সিসিস্ট।
গন্তব্য কোন নিরাময় কেন্দ্র বা একক ঘরে।
তাদের প্রচারে আপনি প্রচারিত হবেন নতুন নামে।
।।।।।।।।।।