ট্রান্সট্রোমার, আমাকে তোমার চেনার কথা নয়
চিনবে না হয়তো কোন কালে।
বাস্তবতার নিবিড় প্রতিচ্ছবি নিগূঢ় রূপ দান
তোমার কবিতার রস, প্রাণ
তুমি তো নীরব পদচ্ছায়া শুনেছো
অন্তিম সূর্যের কান্না
মরা চাঁদের মৃয়মান আলোয় গিলেছ সাধ ও গন্ধ।
তুষারাচ্ছন্ন গাড়ির কাচের ফাঁকে
আবছা দেখেছো
গাদাগাদি বালক বালিকা
বাসে উঠার জন্য অপেক্ষারত ধাক্কাধাক্কি।
প্রকৃতির অপার শক্তি ভয়ে তুমি কাতর-
যদি কখনো নিখিল অন্ধকারে তলিয়ে যায় ধরণী!
নিচু তলার যেসব জড় কীটের আহাজারি
উঁচু তলায় পৌঁছে না-
সেসব, তোমার শ্রবণ-ইন্দ্রিয় ডামাডোলের মত বেজেছে
ট্রান্সট্রোমার, তুমি দেখেছো ইয়ুরোপ, আমেরিকা।
বাংলাদেশ দেখোনি! আমি দিব্যি করে বলতে পারি
বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের আভ্যন্তরীণ বিষয় বিবেচনায়
তুমি কবুও কাতর হও নি।
তোমাকে সাদর আমন্ত্রণ, ট্রন্সট্রোমার।
বেড়াতে এসো স্বাধীন সার্বভৌম, বাংলাদেশে
দেখে যাও, পিঁপড়ার মত মানুষের সাড়ি
অনাহারী বস্ত্র বালিকার আহাজারি,
রাস্তায় স্টেডিয়ামের পাশে ফুটপাতে, নিশুতি রাত
মধ্য মাঘের কড়কড়ে শীতে কেমন কিলবিল করছে
অগণিত বাস্তুহারা নৃ-পথ যীশু!
অন্তত ওদের জীবন চারিত বিষয় অবলম্বনে
লিখে দিয়ে যাও, খানা’কয়েক কবিতা!
ঘাস ফড়িং, দোয়েল অথবা পতঙ্গের জীবন নিয়ে।(২৯/৫/১৩, টেকনাফ)