সুখ দুঃখ আশার পারাপারে সাথী দু'জনারে লয়ে
দিক হারায়ে ভাসছে তরী অসীম বিস্তার, দহে।
তিমির রাতি আঘাত হানি, ভাঙ্গে বুকের পাঁজোড়-
নীল শূন্য জলের সীমাহীন নীলাম্বর, অনন্ত দরিয়া সাজোয়াল
অনিশ্চয় স্রোতে ভেসে চলছে তরী নিরুদ্দেশে যাত্রা গতি মন্থর।

অসীমের মাঝে হারায়েছি পথ
সীমা নাহি, নিস্তার নাহি, ত্রাহি
ভেসে চলাই হেথা জন্মব্রত, এলাহি!
ধ্রুবতারা নিশানা আঁকিয়ে, মনব্রত সঙ্গি তোমায় নিয়ে
মিশে যাই অনন্ত সীমার অনিশ্চয়তায় আঁধারে...।

আমাদের ছোট্ট তরীখানি-
সুখ তুমি হও মাঝি, আমি দুঃখ,  দাঁড়টানি
হাল ধরিবে তুমি, আমি ঢেউয়ের তাল।
অনন্ত দরিয়ায় অথই সলিল শ্যাম-
হাঙ্গর - ক্ষোঙ্গর দানবীয় জলধর।
নাহি দেখি কূল, নাহি আলোর নিশা
হারায়ে সব পথ, পাই অন্য পথের দিশা ।
যত দূরে যাই, আরো গভীরে জড়াই
আদিমতায় হ'ই বিলিন, তোমার আমার সুখ
প্রেম সুধা।

কবু বিধুর সন্ধ্যায় বেহাগ বাজিয়ে নামে যদি আঁধার
প্রেরণার অমোঘ শক্তি, আলো জ্বালাবে নিকষ কালো দ্বার।

আমি পূজারি, তুমি পূজার ডালায় অর্ঘ
দেবির তুষ্টে সাধিতে তপঃ গোপন প্রেমে মগ্ন-
অর্ঘ সাজিয়ে পূজা দেব মানসসুন্দরী তোমাকেই
প্রিয় প্রতিমার আসনে তুমিই মহাশ্বেতা- আমি ভস্মিত স্বামী।
ক্লান্তি - ক্লেশ বহিয়া বহু ঝড়- জঞ্জা আবেশ, যামী
নক্ষত্র ভেদি পৌঁছে গিয়ে পাবো হেথা যজ্ঞ আসীন।

তব হেন কালে ঈশান কোণে-
রেখাপাতে দেখা দেবে নব আলোয়ে রেশ।
নতুন ঠিকানা পত্তনে আমাদের দ্বিকবিদিক উচ্ছ্বাস
আলোয়ে হরা প্রথম সকাল, আমাদের নতুন দেশ!!

[৩০/৬/২০১৬, ঢাকা, প্রথম প্রহর]