ইস্কুলের বইখাতা বন্ধ করে, যেদিন বাড়ি ফিরলাম। শোবার ঘরে দেখি কয়েকটা বইয়ের তাক। ধর্মশালার বিভেদ,স্বাধীনতা দ্বন্দ্বীয় ব্যপক জ্ঞান। নেতারা নোবেল হাতে ডাকছে রাজপথে!
শিক্ষার্থী নাকি সশস্ত্র যোদ্ধা হয়ে উঠছি, বোঝা গেলোনা!

সহদোর পরীক্ষা বুঝিয়ে- প্রশ্ন ধরিয়ে দিলো। বন্ধুরাও বাদ যায়নি, দিয়েছে মস্ত বড় লাইব্রেরি।
বাদামের খোসায় দেখলাম আস্ত জাহাজের নকশা। ত্রিকোণোমিতির কস থিটা, সাইন থিটায় জীবনের মান কত?

অপেক্ষিক ভরবেগে ঘটনা ভিন্ন, তবে সূত্র এক।
অনু-পরমানু থেকে অস্তিত্ব খুঁজলে- জীবন; ইস্কুলের শেষ বার্ষিক পরীক্ষা। সুপ্ত বীজ থেকে, ফুলে ওঠা বীজ পাতা।

বাবার পুরোনো ফনিক্স সাইকেল ছুঁয়ে, ফিজিক্স উঠলো ব্যাগে। প্রেমের রসায়ন, গ্যাসের ব্যাপনে- জীবন "কার্বন মনোক্সাইড"। বিবর্তিত বন্দি পাঠশালায় ফুসফুসে জমে নিকোটিন।

জমকালো আধাঁরে, মশাল হাতে স্লোগান দিতে লাগলাম। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে/ অন্যায় রোধের কবলে পড়ে- অন্যায় এখন নির্মিত শ'তলার মিনার। অংক শিখে ভুল করিনি। ইতিহাস পড়েছি বলেইতো, পরিবর্তন শিরায় শিরায়। প্রয়োজন কখনোই অপেক্ষা করেনা। বরং খরা স্রোতের মতো।

ঝড়; কোন উপকূলীয় দ্রাঘীমা রেখা থেকে বইছে-
বুঝতে বুঝতে, নয় নম্বর বিপদ সংকেত। আশ্রয় স্থল থেকে সমুদ্র- দূরবিনে অর্ধ ব্যাসার্ধ। বিপদ সীমার খুঁটি তলিয়ে যাচ্ছে। চোখের ভেতর জ্বলজ্বল করছে হামাগুড়ি খাওয়া উঠান। দাদুর কন্ঠে শোনা মারফতি, মুর্শিদি গান।

আবার ইস্কুলে যাবো, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারা পাল্টে, হবো মানবিক। প্রত্নতাত্ত্বিক বিস্ময় যেমন সত্য, তার অধিক বিশ্বাস নিয়ে ফুলে উঠবো মাটি থেকে। ধর্মের কাছে ধর্ম, মানুষের কাছে মানুষ, প্রকৃতির কাছে নির্মল আলোবাতাস কিংবা বৃক্ষ, লতাপাতা হয়ে জন্মাবো।

নারীর মতো নারী কিংবা পুরুষের মতো পুরুষ হয়ে জন্মাবো।