এ যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে উন্মুক্ত করা। একে একে খসে যায় শরীরের পোশাক হিমের পরশে যেমন গাছের পাতারা ঝরে। উলঙ্গ গাছ অব্যক্ত নীল আকাশের কাছে প্রার্থনা জানায় হে উদার নভোনীল এই আবরণহীনতা আর ভালো লাগেনা। নাও নাও আমার যত যন্ত্রণা অভিশাপ নিয়ে আমায় ফিরিয়ে দাও পান্না সবুজ পেলবতা। উদার আকাশ সবটা বিষ শুষে নেয় কৃষ্ণ সখার মতন সবুজ বস্ত্র ফিরিয়ে দেয় ধীরে সমীরে। সব পাপ সব দোষ সব ষড়যন্ত্র সব মিথ্যা ভাষণ প্রতিশ্রুতি কি তাতে শেষ হয়ে যায়? তখনো কিছু রয়ে গেছে হলুদ শুকনো ঝরা পাতার মতন কিছু মন্দ মতলবে রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ। যা কিনা ঘুন পোকার মতন হৃদয় কুরেকুরে খেতে থাকে। এই আত্মদহন থেকে কি সত্যিই আমার মুক্তি নেই।
    এই যে রাজা রানী পোশাকে আমি ভালমানুষ সাজবার প্রচেষ্টা করে চলেছি দুর্নিবার। সবটায় এই আয়নার কাছে প্রকাশ হয়ে যায় উন্মুক্ত অসির মতন। আমি আমার এক আকাশ অহংকারে রাজদণ্ডের প্রহারে টুকরো টুকরো করে ফেলি। তবুও  সেই আয়নার ভাঙা টুকরোয় দেখি অন্যের শরীরের রক্ত মাখা মুখ। সে  ব্যঙ্গ করে বলছে - তুমিই সেই নষ্টের মুল স্বরযন্ত্রী । সেই রাতে সপ্তরথী মিলে অভিমন্যু বধ করেছিলে। যা কিছু তথ্য প্রমাণ ছিল বেমালুম ধুয়ে মুছে ফেলেছ অনায়াসে। কিন্ত ইতিহাসের মতন বিবেক রয়ে গেছে আন্তরিক পবিত্রতা রক্ষা করে, ঠিক ঐ আয়নার মতন। সব ধুয়ে মুছে সাফ হলেও নিজের অন্তর মহল কি করে ধুয়ে ফেলবে হে মহামানী মানুষ।