আগুন জ্বলে ওঠে রাতের বুক চিরে,  
আলো ছিটিয়ে দেয় তারার ফুল ঝরে।  
এই আলোর ভাষা বুঝবে কি কেউ?  
গরীবের ঘরে আজো অন্ধকার ঢেউ!  

পেটের ক্ষুধা নিয়ে শিশুরা হাঁটে,  
অন্ধকার ভাসে ছেঁড়া কাঁথার পাতে।  
আলো কি ওদের জন্যও জ্বলে?  
নাকি শুধু রাজপথের নাচন তলে?  

কারখানার চিমনি ধোঁয়া ছুঁড়ে কয়,  
গলির ভিখিরি রুটি খুঁজে রয়।  
আলো কি ওদের চোখেও পড়ে?  
নাকি শহর আলোকিত কেবল নোটের গড়ে?  

খাঁ খাঁ পড়ে থাকা এই খালি মাঠ,  
কোথায় স্বপ্ন? কোথায় প্রভাত?  
আলো যদি সবার, তবে কেন আজ  
কাজল মেখে আছে হতদরিদ্র সাজ?  

শ্রমিকের মুঠোতে কেবল ঘাম জমে,  
আলো তার বাড়ি চিনলো না রে!  
যে হাত গড়েছে রাজপ্রাসাদ,  
তার ঘরেই আজ কেবল ধুলোবাদল ছাদ।  

আলো, ওরে আলো, তুই কি কেবল  
ওদের ঘরেই জ্বলবি?  
নাকি মাটির ঘরে, কুঁড়েঘরের কোণে  
একটুখানি হাসির রোশনি ফেলবি?  

তুই কি জানিস, ক্ষুধার জ্বালা কাকে বলে?  
মজুরের ঘামে জীবন কেমন জ্বলে?  
এই আলো চাই, চাই সবার ঘরে,  
দিন আসবে—ওরা হাসবে উজ্জ্বল প্রভাতে রে!  

দিন আসবে, আলো ফুটবে দ্বারে দ্বারে,  
আকাশ গান গাইবে শ্রমিকের রক্ত জ্বলে!  
দিন আসবে, এ আঁধার মুছে যাবে,  
আলো জ্বলে উঠবে জনতার কপালে!