স্রষ্টা তুমি দিয়েছো নির্মল আকাশ
রবি শশী তারা গগনের ভালে
দিয়েছো সন্ধ্যার মধুরিয়া ঊষার আলো
মনোহর রশ্মি দিক চক্রবালে ;
শস্য শ্যামলা ক্ষুধার অন্নদায়ী ধরা
পিয়াস মেটানো নদীনির জল
বসন্তের মনোরম ঋতু বৈশাখী নিদাঘ
প্রাণ জুড়ানো আষাঢ়ের বাদল।
আলোকপুরীর মতো স্বপ্ন স্বরূপা
আমাদের এই অপরূপ ধরা
অপার সিন্ধু মনোরম গিরি পর্বত
গন্ধ পুষ্পে ফুলে ফলে ভরা ।
কোথা দৈন্য কোথা শোক দুঃখ ব্যাথা
দিয়াছ আনন্দ বেদনা হরা
মানবের হৃদয়ে হরষে মথিত করে
উৎসবে তব মনোরম ধরা।
তবু নিরন্ন মাতা শিশুক্রোড়ে কাঁদে
জীর্ণ কুটিরে শীর্ণ শরীরে
এই ধরণী কোনো যুগে কৃপনা হয়নি
করেনি কারেও অন্নহীন সংসারে;
তবুও কেন দুঃখ দৈন্য শস্য শ্যামলা
প্রাচুর্যভরা এই ধরণী পরে ।
বাঁচার তরে ন্যূনতম এই ধরণী পরে
সবার অধিকার গুণমানবিনা ,
পরিশ্রম লব্ধ সম্পদে হলে ধনশালী
নাহি দোষ,পাপ দুর্বলে বঞ্চনা।
বাতাস বিষাক্ত করেছো মানব তুমি
চতুর সভ্যতার উন্নতির বিষে,
স্রষ্টার সৃষ্টির সুরে তোমার অবিমিশ্রতায়
ধ্বংসের সুর লেগেছে মিশে।
স্বর্গকে করেছ নরক সীমাহীন লোভে
ভুলে গেছে মানব জীবনের গান
প্রেম ভালোবাসা সুখসণে সরল জীবণে
সবার তরে সুখে সহাবস্থান।