Happy Husband"
এক সন্ধ্যা—
নিরবের সাথে বসে আছি চায়ের দোকানে,
ধোঁয়া ওঠা কাপের মাঝে কিছু পুরনো গল্প,
জীবনের টুকরো টুকরো কষ্ট ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে,
অথচ আমার চা-সঙ্গী আজ নিরব,
না কোনো মেয়ে, না কোনো গোপন অভিসার।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, নিরবকে পৌঁছে দিয়ে ফিরছি,
পথে শুনতে পেলাম ভেসে আসা কণ্ঠ,
রিহাদের স্ত্রীর ক্ষোভভরা স্বর—
“তুমি আমায় রেখে বন্ধুদের সাথে?
তুমি তো বলেছিলে, আমার সময় কম!”
রিহাদ ম্লান হাসে,
“আরেহ! রাহাতের সাথে বসেছিলাম একটু,
সে তো আমাদের ছোটবেলার বন্ধু…”
কিন্তু উত্তর ঝরে পড়ে কঠিন বরফে—
“ওই বন্ধুর সময় কি শুধু তোমার জন্যই বরাদ্দ?
তোমরা ছেলেরা আসলে করোটা কী? আমি বুঝি না!”
আমি থমকে যাই,
সন্দেহ কি এতোই সহজ?
একটি সন্ধ্যার মূল্য কি ভালোবাসার চেয়েও কম?
পরদিন অর্ণব বলে—
“ভাই, রিহাদ তো আর বাসা থেকে বেরোতে পারবে না!
তুই নাকি তার বউয়ের চোখে এক নম্বর অপরাধী!”
আমি অবাক হয়ে বলি—
“অপরাধ কী, জানিস?”
অর্ণব হাসে—
“তুই মেয়েদের সাথে সময় নষ্ট করিস!
তাই রিহাদের তোর সাথে মেলামেশা বন্ধ করতে হবে।”
আমি মৃদু হেসে বলি—
“বাহ! আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের সাথে ডেটিং করিনি,
তবু আমি দোষী!
তাহলে দোষী হলে কেমন হতো?
বন্ধুর বউয়ের চোখে কি নীলছবির তারকা হয়ে যেতাম?”
অর্ণব ফিসফিস করে—
“তুই দোষী নস,
অসুস্থ মস্তিষ্কের সমাজ তোর বিরুদ্ধে!”
আমরা বন্ধু, তবু একে একে সবাই দূরে সরে যাচ্ছে,
একটি সন্ধ্যার জন্য,
একটি হাসির জন্য,
একটি বন্ধুত্বের জন্য,
কারণ আমরা পুরুষ,
আর পুরুষের স্বাধীনতা—
একটি অদৃশ্য কাগজে লেখা অনুমতি পত্র!
রিহাদ এখন আমাদের গ্রুপে শুধু "রিঅ্যাক্ট" দেয়,
তিনটে ডট দিয়ে মেসেজ লেখে, কিন্তু সেন্ড করে না,
আর তার ফেসবুক আইডির নতুন নাম— "Happy Husband"