সূয্যি মামার কিসের কথা পল্লবের সাথে ?
নিঁজে পোড়ে আলো দেয় তাঁহার আঁখিপাতে।
ঝর-বৃষ্টি আর আঁধার যাচে অট্টহাসি হেসে!
জীর্ণ-শীর্ণ গাত্রখানি গলে-পঁচে খঁসে
আলো দেয় পুষ্পে; আলো দেয় চারিদার,
যুগে-যুগে পোড়ে সে, ঢালিতেছে অশ্রুভার।
ঢালিতেছে তীক্ত অশ্রু, কখনো
বা মেঘ-বৃষ্টি নয়নাপুষ্পাবারে,
সিন্ধুসম-অসীম-পীড়িত
বাড়িছে তাঁহার ব্যাথার-জোয়ারে!
দারুণ ব্যাথায় আসবেনা ভাটা এ নষ্ট জগতে?
বেঁচে থাকা তার দায় আজ বেঁচে থাকার রথে
-শোষন আর শাসন
আজীবন, শোষে খায় সুশীল গণ!
সৃষ্টি হতে, তাঁদের অত্যাচারের মারন-শিকল
কাঁসল বেঁধে পায়, ঢালিছে ব্যাথার
পিয়ালা অনাবরত অবিরল ।
অনাবরত ঝরিছে তাঁরা, চড়িছে সিংহাসনে বিত্ত
স্বার্থ লোভীর দল,
কামার-কুমার-চাষা অকালে মরিতেছে সবে
বলে, "চাই এক ফোঁটা জল"
নাহি জল, নাহি ফল, দু'মুঠো অন্ন নাহি
খেটে খাওয়া মানবের তরে,
অথচ তারাই ফোটালো শষ্যের গালিচা,
সুশ্যামল করিলো পৃথীবির প'রে।
জবাব নাহি তার, ক্রন্দন ধ্বনি নীরবে সয়ে
যাওয়া; আর
এ রানীর রাজ্যে কে করিবে বিচার? জমানো
ব্যাথা অজস্র অপার!
-তাঁদের মেহনতে আজ
রঙ্গিন হয়েছে মরু! পূর্নতা পেয়েছে ধরনী মাঝ,
রচিল যত কাব্য, যত অসাধ্য সাধন?
মরুতে জাগালে ক'সুদর্শন ফুল।
এ ফুল ধরনীর তীর্থস্থানে নহে,নহে কেহ
তুমিই তা, তুমি তার মূল!
তুমিই ধানিয়াছ রাজ সিংহাসন,
মহাঅট্টালিকা অন্ধ পৃথ্বীর ভিতর!
ঋষি-মহর্ষি আর শ্রেষ্ঠত্ব হলো যত
একমাত্র তুমি তার শিকর।
_________
০৭।০৭।১৭
অমর একুশে হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়