ঘটনা কাল ১৯৮৮-১৯৯০(রচনা কাল ২০১৫)
=======================
চোখের পানি
      ....... শমসের সিকদার
গভীর রাত-
চারিদিকে আবছা অন্ধকার
ঝিঁঝিঁ পোকারা নিরন্তর ডাকছে
কাস্তে আকৃতির এক ফালি চাঁদ
মেঘহীন- ঝলমলে আকাশে।

জানালার ফাঁকে দেখা যাচ্ছে
জোনাকী পোকার নীল আলো
কলপার থেকে ভেসে আসা
হাসনাহেনার সৌরভে মৌ মৌ চারিদিক।

পাশের খাটে তাঁর সিজফিনি মা
গল্প করছে নিজের সাথে তখনও
পাশের ঝুপ থেকে-
ভেসে আসছে হুতুম পেঁচার ডাক
অবিরাম চিৎকার করছে পোষা কুকুরটা।

হঠাৎ-ই  ঘুম ভাঙ্গে কিশোর শমসেরের  
বাজানের গোঙানির   আওয়াজে
ধাক্কা দেয় শমসের
বাজান!অ বাজান  কি হইছে!
ডাকে আতঙ্কিত সুরে
কিন্তু কোন সাড়া নেই বাজানের!

তেল মালিশ করে অবিরাম সবায়
জ্ঞান হারানো পিতার হাতে পায়
বড় ভাই তাঁর ছুটে ডাক্তারের খুঁজে
তিন ক্রুশ দূরে ঐ গ্রামের বাজারে
পাশের বাড়ির মৌলভী ভাই এসে
ঝাড়  ফুক করেন-
আয়াতুল কুরসি পড়ে পড়ে।  

আসে প্রত্যাশিত ভোর,
আসে ডাক্তার,ফিরে জ্ঞান বাজানের
আর সে-যাত্রায়
চোখের পানি মুছে শমসের ।।