ঘুম তো সেই কখন ভাঙ্গে।
সজাগ ইন্দ্রিয় নিয়ে চুপটি হয়ে শুয়ে থাকি।
বন্ধ চোখ সাক্ষী দেয় গভীর ঘুমে আচ্ছন্নের!
শারীরিয় বহিঃপ্রকাশে বোঝার উপায় নেই, আমি এতটুকু জেগে আছি।
এসবের মূলে শুধু অপেক্ষা।
তোমার অপেক্ষা!
তোমার অবস্থান এখন টের পাচ্ছি রান্নাঘরে।
থালা-বাসনের সাথে জলের আওয়াজ মিলিয়ে
তুমি সকালের আয়োজন শুরু করেছ।
ক্ষাণিক পরে টের পাবো,
তুমি ডাইনিং টেবিলে কাপ-পিরিচের টুংটাং আওয়াজে।
তাহলে ধরে নেবো, পরবর্তী দায়িত্ব হতে তুমি আর বেশী দূরে নও।
তুমি আসবে আমার ঘরে।
জানালার পর্দা সরিয়ে,
রোদ্র দিবে আমার চোখে মুখে।
তুমি শান্ত স্বরে ডাকবে আমায়, এই ওঠো! অনেক বেলা হলো তো।
আমি তোমার ডাক উপেক্ষা করে ওপাশ ফিরতে চাইবো!
তোমার শীতল হাতে, আমার ওপাশ ফেরার সকল শক্তি জড়িয়ে যাবে!
তুমি সরল চোখে আমার দিকে তাকাবে,
তাকাবে তোমার সকল ব্যস্ততা ভুলে।যেন অনেক বছর বাদে
এ মুখটা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তোমার।
তুমি আমায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে।
তোমার আঙ্গুলে আমার চুল এলিয়ে দেখবে, কোন পাকা চুল আছে কিনা!
মুখের কাছে গন্ধ নিবে, গতকাল কোন সিগারেট খেয়েছি কিনা!
তুমি হাত বুলাবে আমার বুক পশমে।
তোমার নখে, ঘামাচির মত কিছু একটা বাঁধলে তুমি তা আলতো করে খুঁটিয়ে দেবে।
প্রয়োজনে ঘাড় নামিয়ে, বুকের কাছাকাছি চোখ এনে!
তুমি ক্ষাণিক পরে আবার ডাকবে, ‘এই অফিস যাবে না?’
আমি সদ্য ঘুম ভাঙ্গা নিষ্পাপ শিশুর মত চোখ খুলবো,
যেন এতক্ষণের একান্ত আদরের ছিটে ফোঁটাও আমি অনুভব করতে পারিনি।
আমি আহ্লাদে তোমার পাঁজর জড়িয়ে ধরবো,
তুমি মিছেমিছি আমায় ছাড়তে চাইবে।
কিন্তু আমি জানি, এ আহ্লাদটুকু তুমিও যে চাইছো!
আমি তোমার কোলে মাথা রেখে আবারো ঘুমাতে চাইবো!
তুমি ক্ষাণিক ক্ষণের জন্য সব মেনে নিবে।
অবলীলায় তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে চলবে!
তুমি এবার শাসনের সুরে বলবে,
অনেক হয়েছে, ওঠো এইবার।
আমি সটান উঠে বসবো।
তুমি বিছানা হতে উঠে যাবে, তোমার বাকি কাজ সারতে।
আমি মুচকি হেসে অনুভব করবো,
মাত্র শেষ হওয়া আমার একান্ত আদর যাত্রা!