বয়সের ভারে হাত কাঁপে, পা কাঁপে
বয়োবৃদ্ধ রহীম চাচার
তবু পা চালাতে হয় রিকসার প্যাডেলে
ক্ষুধা যে বড় বাস্তবতা, পেট মানেনা
পঞ্চাশের বদলে একশ টাকা ভাড়া দেয়
কোন কোন সহানুভূতিশীল যাত্রী ।


বয়স ‍আর কতইবা হবে শিশু শাওনের
এগার কিংবা বার, তিনটি পেটের দায়িত্ব
অসুস্থ মা, ছোট্ট একটা বোন, আর সে
ক্ষুধা যে বড্ড নির্মম
সকাল থেকে সন্ধ্যা, প্রতিদিন কাজ করে
সাইকেল রিকসার গ্যারেজে
সদয় গ্যারেজ ‍মালিক
বেতন একটু বাড়িয়ে দেয় ।


নিয়নবাতির মৃদু আলোতে
পূর্ণ যুবতী মালতী
লাল ঠোঁটে ম্লান হাসি নিয়ে অপেক্ষা
কোন আগ্রহী অগন্তুক যদি পায়
পাশ কেটে চলে যায় এক আগন্তুক
উবে যায় ঠোঁটের হাসি
আরেক আগন্তুক, বড়ই সহৃদয়
হাতে ধরিয়ে দেয় একটি বড় লাল নোট
ঘরে ফেরে যুবতি
খাটে পড়ে আছে চলতশক্তিহীন পিতা
ঘুমন্ত ছোট্ট ভাইটির নিষ্পাপ মুখ
প্রয়োজন আর পেটের দায়ে
উপায়হীনের অবলম্বন লজ্জা বেচার পেশা ।


আপাত দরদির মুখে বুলি ফোটে
“হে ঈশ্বর এ তোমার কেমন খেলা, কেন এমন হয়”
অথচ দায়িত্ব ছিল মানুষের ও রাষ্ট্রের
দায়িত্ব ছিল আত্মীয় ও প্রতিবেশীর
ঈশ্বরের ঘাড়ে দায় ঠেলে
মানুষের দায়িত্ব এড়াবার মোক্ষম কৌশল বটে !!!


ফিরোজ, দিলকুশার পথে, ২২/০১/২০১৭