একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে
      বসন্তের নূতন হাওয়য়ার বেগে ।
তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি ,
" পরিচয় কোনো আছে নাকি,
        যাবে কোনখানে ? "
আমি শুধু বলেছি, " কে জানে !"


নদীতে লাগিল দোলা ,বাঁধনে পড়িল টান----
    একা বসে গাহিলাম যৌবনের বেদনার গান।
        সেই গান শুনি
কুসুমিত তরুতলে তরূন তরূণী
  তুলিল অশোক---
   মোর হাতে দিয়ে তারা কহিল ," এ আমাদেরই লোক "।
  আর কিছু নয়,
সে মোর প্রথম পরিচয় ।।


তার পরে জোয়ারের বেলা সাঙ্গ হল.
সাঙ্গ হল তরঙ্গের খেলা ;
কোকিলের ক্লান্ত গানে বিস্মৃত দিনের কথা অকস্মাৎ যেন মনে আনে ;
কনকচাঁপার দল পড়ে ঝুরে;
ভেসে যায় দূরে,
ফাল্গুনের উৎসবরাতির নিমন্ত্রণলিখনপাঁতির
ছিন্ন অংশ তারা অর্থহারা ।


ভাঁটার গভীর টানে
তরীখানা ভেসে যায় সমুদ্রের পানে ।
নুতন কালের নব যাত্রী ছেলেমেয়ে
শুধাইছে দূর হতে চেয়ে,
' সন্ধ্যার তারার দিকে
   বহিয়া  চলেছে তরণী কে ?"
      সেতারেতে বাঁধিলাম তার,
গাহিলাম আরবার,
       ' মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
         আমি তোমাদেরই লোক,
         আর কিছু নয়-----
এই হোক শেষ পরিচয় ।।