যেদিন তুমি আমায় একা ফেলে রেখে চলে গেলে
উপহার দিয়ে গেলে কঠিন দুঃসহ কিছু অসহ্য যন্ত্রণা!
মুহূর্তের মধ্যে থমকে গেল আমার রঙিন ধরণী
স্বপ্ন ভাঙার বেদনা জমা রয়ে গেল হৃদয়ের নিবিড়ে!
এখন আর দেখতে পাইনা দ্যুলকের গোধুলী
দল বেঁধে কালো বারিদ ভেসে চলেছে প্রতিনিয়ত,
এখন প্রতিটা সময় কাটে অমাবস্যার ত্রিযামার মতো
বেদনার অম্বুদের আবরণে ঢেকে গেছে অন্তরীক্ষের ইন্দু!
চঞ্চলা তিস্তার মতো ছিল আমার শীতল হৃদয়
বনভূমির কুরঙ্গের মত করতাম তোমার প্রতিক্ষা,
চিরতরে কোথায় যেন হারিয়ে গেল স্বপ্নের দিনগুলি
হৃদয়টা হয়ে গেল নির্জন অটবীর মতো শুন্য!
নিরাকার বিষাক্ত জীবনটা নীরবে ধারণ করেছে
গোধুলী লগ্নের রক্তিম গগনের মতো লাল বর্ণ!
মনের অতলে জমেছে অসংখ্য অশুভ কালো নীরদ
চারিদিকের স্তব্ধতায় মস্তিস্কে হানা দেয় শুন্যতা!
এখন আর শুনতে পাইনা দ্বিজদের কোলাহল
দেখতে পাইনা বর্ষার দিনে পেখম মেলে ময়ূরের নাচ,
জানিনা কেন হাজার চেষ্টা করেও আঁকতে পারিনা
নীল রঙে ভেজা কলম তূলিতে তোমার চিত্র৷
বর্ন হারিয়ে ফেলেছে সুদূর সবুজ প্রান্তরের লতা
খুঁজে পাইনা কোথাও বেঁচে থাকার
কিরণ!
হৃদয়ের গভীরে উদিত হওয়া প্রেমের ভানু,
জীবনের নীরাবতার জালে বন্দি হয়ে অস্ত গেছে!
প্রতি নিশিতে অক্ষির নোনা নীরে ভেসে ওঠে
তোমার সঙ্গে কাটানো সেই আগের দিনের প্রতিচ্ছবি!
আজ সবই ক্লেশের গিরির নিচে চাপা পড়ে
প্রতিক্ষণে কিসের প্রত্যাশায় যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছে!


কাব্যগ্রন্থঃ- কারাগার
রচনাকালঃ- ২৬/০৪/২০১৭