হৃদয় দিয়ে স্মরিতেছি মাকে আমি সদা সর্বক্ষনে।
তাহার নামে কতনা কাব্য লিখিয়াছি মনে মনে।
আমার লেখা কাব্য মালা পড়িছে কতনা জনে,
মাযে আমার হারিয়ে গেছে,পড়িলেও নাহি শোনে।
বাল্য বেলায় জননী হারিয়ে আমায় করিল একা,
ভুবন ভরিয়া সব কিছু ছিল তবু হৃদয়টা ফাকা।।
লোকের মুখে শুনিয়া ছিলাম সাত বছরের আমি,
সবার ছোট বোলেই আদর পেতাম দিবা যামি।
ছোট্র বুকে মায়ের স্মৃতি অনেক রহেনি বাঁচি,
দু এক স্মৃতি বুকেতে ধরিয়া আজও বাঁচিয়া আছি।
স্নান করাত খাবার দিত কতনা যতন করি,
নিদ্রা এলে ঘুম পাড়াত আদর সোহাগ ভরি।
মা যখনই মসলা পিসত পাটায় ঢুলিয়া ঢুলি,
মায়ের পিঠে দোল খেতাম গলা জড়িয়া ঝুলি।
সবার সাথে হাজার খেয়েও আমার থাকিত আড়ি,
খেলা ছাড়িয়াও মায়ের মুখের খাবার নিতাম কাড়ি।
ভাই বোনেরা বলত সবাই,এইনা খেয়ে গেলি!
জালাতন করিতে মায়ের কাছে আবার কেন যে এলি?
আমার মনের গহিন ব্যাথাটা কেউ তো বুঝতনা,
মায়ের সাথে খাবার না খেলে তৃপ্তি হইতনা।
অসুস্হ হইয়া জননী আমার রাজধানীতে যায়,
ভাই বোন সবারে রাখিয়া বাড়িতে আমারেই সাথে নেয়।
হাস পাতালের বেডে শুইয়াও ভাবে যে মা মোর কথা,
আর কাউরে ভাবিনাতো ,কে বুঝবে ওর ব্যাথা!
সেই মা যে আজ আমায় ফেলিয়া কত দুরে গেছে,
মনে নেই মা কেমন ছিল,আজকে কেমন আছে!
শুনে ছিলাম সবার কাছে মাটির মানুষ খাঁটি,
আজ যেন তার কবরটি হয় স্বর্গ পরিপাটি।
আজকে বাবু আমার সাথে যে সব বায়না করে,
মায়ের সাথে আমার করা স্মৃতি গুলো মনে পড়ে।
গোসল কাফন সেরে মায়ের খাঁটিয়া কাঁধে নিয়ে,
রওয়ানা হইল আমার বাড়ির খোলা আঙ্গিনা দিয়ে।
চিৎকার দিয়ে শুধালাম সবায় আম্মারে নেও কেন?
ধরিলাম টানিয়া খাটের পায়া নিতেই দিবনা যেন।
আমার দশা দেখিয়া সেদিন কেঁদেছিল দেশ বাসি,
জননী আমার সেদিন থেকেই হলেন কবর বাসি।
দু:খের জলে ভাসছি সেদিন ভাবছি দু চোখ বুজে,
কবর পরে থাকব শুয়ে কেউ পাবেনা খুজে।
আজ যে আমি গৃহিনি হয়েছি,সন্তানের মা,
তবু মায়ের বিদায় ব্যাথা ভুলতে পারিনা।