কবি সামসুন্নাহার ফারুক, জন্ম ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ সালে ঝিনাইদহ জেলার পুটিয়া গ্রামে। পিতা- মোঃ জনাব আলী মাতা- ফাতেমা খাতুন। স্বামী ফারুক সিদ্দিকী সাবেক সচিব এবং সিকিউরিটিস এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখি করেন খুব ছোটবেলা থেকেই। এ যাবত তার ৫টি কাব্যগন্থ প্রকাশ হয়েছে-সুবর্ণ সময় -১৯৮৫, বিশ্বাসের সেই বৃক্ষটি-১৯৮৮, শ্রাবণ কফির পেয়ালা-২০১১ এবং এক মুঠো রেশমি চুড়ি-২০১২। শিশুদের জন্য লেখা কিপটে বুড়ো নাতি-২০০৬ ও কাতলা লেনের পাতলা খান ২০০৮ নামে দুটি ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘মনিটরে প্রিয় মুখ’ কাব্যগ্রন্থ যন্ত্রস্থ। তিনি বিশেষ সংখ্যা সহ বিভিন্ন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন।


তিনি চলমান জীবনের রস বোধ, দুঃখবোধ, বিষন্নতা এ বিষয়গুলোর যে জৈবিক তাড়না তা তিনি উপলব্ধিতে রেখেই কবিতার শরীর নির্মাণ করেছেন। প্রত্যেকটি কবিতাতেই তিনি জীবন বোধের পরিচয় দিয়েছেন। সাবলীল অর্থ প্রকাশে এক সফল চিত্রকল্প অঙ্কন করতে সমর্থ হয়েছেন নিঃসন্দেহে। চমৎকার গঠন শৈলী কবিতার। পরিচিত শব্দ, আধুনিক রুচিসম্মত বোধে কবিতা সৃষ্টিতে তার নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য দাড় করাতে পেরেছেন। কবির প্রতিটি কবিতায় ওঠে এসেছে প্রেম-প্রকৃতি ঋতু বৈচিত্রের কথা, তিনি প্রেমের জোয়ার এনেছেন প্রকৃতির মাঝে। অসাধারণ কবিত্ব ফুটে ওঠেছে তার কবিতায়। কবি সামসুন্নাহার ফারুক তাঁর কবিতায় আধুনিক জীবন বোধের ছাপ রেখেছেন। তার কাব্যের বাঁকে কবি জন কীটসের অনুপ্রেরণা প্রবল। তাই তাকে আধুনিক সময়ের বা সম-সাময়িক সময়ের বিচারে কবিতার কষ্টি পাথরে যাচাই করা হলে দেখা যাবে তিনি তাঁর অবস্থানটি নির্দিষ্ট করতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
লেখালেখির জন্য তিনি পেয়েছেন- বিকাশ সাহিত্য পুরস্কার-১৯৮৮, খলিল উল্যাহ মৃধা স্মৃতি পদক-২০০৫, পালক এওয়ার্ড -২০০৩ (ছড়াসাহিত্যে), শারদীয়া হেমন্ত কবিতা পুরস্কার-২০১২, অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন সম্মাননা -২০১১ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন-বিজয় সম্মাননা-২০১১ পেয়েছেন।
বিদেশ ভ্রমণ : বৃটেন, সৌদি আরব, ভারত