তুমি তালগাছ, কত লম্বাটে তুমি!
কীরূপ দীঘল তোমার দেহ, কত উঁচু থাকের সমীরণের মনমাতানো ছন্দে দোল খাও তুমি!
মৃদুলা ছন্দতালে অদ্রুত নাচে তোমার পাতা, শুধুই অকারণে তোমার পানে ঘাড় বাঁকিয়ে চেয়ে অশ্রুরুদ্ধ কন্ঠে আমি।।


বলি যে কত...পাষণ্ড জানি কোথাকার!
শুনতে পাও না কি তুমি?


ঋতুকালে মাতাল রসে মত্ত করো কত মাতাল,  ফলের লালসা বিলিয়েও সানন্দ চিত্তে তোমার হৃদ্ বেরসিকতার মন্ত্র পাঠে মগ্ন,
কালের ঝড়কেও উপেক্ষা করে তুমি দর্প দাহে দাহ্য, নেশার ঘোরে বলে বেড়াও হবে না তুমি ভগ্ন।


বেহায়া মাতাল জানি কোথাকার...!
সত্যিই কি উদ্ভিদ তুমি?


কি অদ্ভুত ছিল তোমার প্রাপ্তি, অপার সম্প্রদানে পরিপূর্ণ করেছেন প্রভু!
যথার্থই কি অসহায়? এতটাই কি নিরুপায়?
সব থেকেও অকর্মার মত চুপ হয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে তুমি যুগান্তর, ভাব নাই কভু।


নিমকহারাম জানি কোথাকার..!
কৈফিয়তে কি দিবে তুমি?


পারোনি তুচ্ছ কোন পথিকের মায়াময় ছায়া হতে এত দীঘল দেহ থেকেও, বরং তোমার ছড়ানো ডালে ক্ষতবিক্ষত কতক, পথিকের অপমৃত্যুর দায়ভার কাঁধেচাপা তোমার,ছুঁড়ে মেরেছো কত মাথায় তাল!
দর্প থাকবে বহুকাল,
দর্পই তিলে তিলে ডাকবে মহাকাল,
প্রকৃতির মালিক তোমায় জ্বালানী করে পুড়াবে চিরকাল।


উপাই কি তখন? কি করবে তুমি?
কোথায়, লুকাবে কি করে?
______________
আলোর দিগন্ত সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত, ২য় বর্ষের ষষ্ট সংখ্যা জুন ২০১৭