স্বাধীনতা! আহা কি সুন্দর কথা!
কষ্ট করে পাওয়া বড় অমূল্য ধন
অযুত প্রাণের বলিষ্ঠ পণ  
জীবন করেছিল দান অমৃত ক্ষণে।


স্বাধীনতা! সে যে বেলা-অবেলায় ইচ্ছেমত
জীবন ছোঁয়া স্বপ্ন মধুময়,
ঘরে ঘরে পরম শান্তিগাঁথা
গৃহবধুর ভালবাসায় আঁকা নকসী কাঁথা;  
সে যে উচ্ছ্বসিত আবেগে ভরা
বিন্দু বিন্দু শিশির সিক্ত ধানক্ষেতে সোনালী কবিতা;    
সে যে অপূর্ব মনোরমা জল তরঙ্গে
দাঁড়ের ছন্দে মাঝির কন্ঠে ভাটিয়ালি সংগীতা!  


স্বাধীনতা - হয়েছিল সে বন্দী
অধীনতার বেড়াজালে  
শোষকের পদতলে,  
সারা দেশ জুড়ে পিশাচের তান্ডব
ধূলায় লুন্ঠিত চেতনা
নিগৃহীতা অন্নপূর্ণা
চারিদিকে বঞ্চণা, ক্ষুধা, চাপা কান্না
দেশ আমার ভীত, দুই চোখ ছিল তার সদা জলে ভরা!


সহ্য হল না আর জননীর অপমান
গর্জে এল বজ্র কন্ঠ -  
আর নয়
“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”
বিজয়ের লক্ষ্যে
হে দেশবাসী হও সম্মিলত, হও আগুয়ান!  
  
তারপর?


রচিত হয়েছে অমর ইতিহাস,
তেজদীপ্ত অসমসাহসী গৌরবগাঁথা;
আকাশের বুকে উড়েছে নির্ভীক লাল সূর্যের সবুজ পতাকা -  
‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’;  
অপ্রতিরোধ্য মুক্তি সংগ্রামে
ঘটেছে শত্রুর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।
  
রক্তরঞ্জিত ত্যাগসিঞ্চিত মুক্তিযুদ্ধে মধুর সে বিজয় সুমহান,  
স্বাধীনতা! স্বাধীনতা! আমরা সকলে বিহঙ্গ এখন, মুক্ত-স্বাধীন!