এইখানে একদা খেলিত সে হাসিখুশী
ছোট শিশুটি তখন
প্রতিদিন হাঁটিয়া যেত বহু পথ
ধান ক্ষেত দুই ধারে ডাকিত তাহারে,
'আমাদের ছুঁয়ে বস এই নদী তীরে
তোমার স্বপ্নের কথা একটু শোনাও।'


আঁধারের বুকে কভু জ্বলিবে কি আলো
যতটুকু ছিল ভাল
আজ সবটুকু তার হয়েছ বিলীন নদী গর্ভে
নিজেও আর বেঁচে নেই নদী
তার বুকের উপর খেলা করে একরাশ বালু।


এখনও আছে সে হয়েছে বয়স
শহরে বেঁধেছে বাসা, গিয়েছে ভুলে    
কবে যেন এসেছে ভেসে অনিবার্য স্রোতে
হারিয়ে গিয়েছে বহু মানুষের ভীড়ে।    
এ বিশাল অরণ্যে তার দিকে কেইবা তাকায়
প্রতিদিনের সংগ্রামে অসহায় বড়
জীবনের প্রয়োজনে দায় ঠেলা আজ বড় দায়।
মুক্তি দাও, বলে যতবার বন্ধন কিছুতেই ছাড়ে না পিছু তার
যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে নিষ্পেষিত    
ছেলেবেলার সেই স্বপ্ন তার গিয়েছে মরে    
ক্লান্ত অবসন্ন দেহে আজ শুধু ভাবে প্রতিদিন
আধুনিক যন্ত্রণা থেকে কবে হবে ছুটি, মিলবে অবসর?  


অগ্রগতির নামে এ জগৎ হয়েছে বিশাল,
আকাশচুম্বী অট্টালিকা, রূপসী অপ্সরা শপিংমহল
নতুন নতুন কন্সেপ্ট, বিলাসব্যসনে ভরা  
সভ্যতার আলো জ্বলিতেছে অত্যুজ্জ্বল।  
তবু  নীচেয় তার এখনো ঘনীভূত অন্ধকার,  
আজো অন্তর করে হাহাকার
ফিরে আসে হারানো সেই সুর বড়ই বেদনার।
ছিল কি উপায় কোন রাখিতে ধরে স্মৃতিখানি তার?  
অবহেলায় মৃত নিবিড় স্নেহময়ী জননী সেই গ্রাম  
সকলে বাঁচিল, কেউ তো বাঁচালো না তাকে হায় -
আধুনিকতা করেছ গ্রাস করেছে তাকে মলিন  
হয়েছে বিলীন আসিবেনা ফিরে আর সেই ক্ষণ।  
এখনো হৃদয় কাঁদে বেদনায়
ফিরে কি পাবার নয় স্বপ্নিল ছায়াময় সেই দিন,  
পারে না কি সকলে খেলিতে আবার
মায়াময় মুগ্ধ সেই আঙিনায় আগের মতন?