প্রিয় কবি সঞ্জয় কর্মকার কবিতার সংজ্ঞা নিয়ে একটা আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। এ প্রসঙ্গে সাধারণ ভাবনায় আমার কিছু মতামত নিম্নে তুলে ধরলাম।


কবিতার কোন সংজ্ঞা হয় না। কবিতা কবির মানস প্রতিমা। কবিই কবিতার শিল্পী – একজন কবি যেভাবে কবিতাকে গড়ে কবিতা তেমন রূপ পায়। সব প্রতিমা দর্শকের দৃষ্টি কাড়ে না। ঠিক সব কবিতা সবার কাছে ভাল লাগে না। সময় ভেদে এই ভাল লাগাটার আবার বদলও হয়। যুগ সৃষ্টিকারী কবিতার প্রতিমা গড়তে হলে ক্ষণজন্মা কবির জন্য অপেক্ষা তো করতেই  হবে – মন কাঁদলে বা আমরা চাইলেই যে তেমন কেউ এসে হাজির হবে তেমন তো নয়।  


উদাহরণ হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা বলা যেতে পারে। একজন অসাধারণ কবিতা শিল্পী - তিনি এসেছিলেন আপন সময়ে। নিজেই কবিতার প্রতিমাকে আপন মনের মাধুরীতে সৃষ্টি করেছিলেন নিজস্ব সংজ্ঞায়। তার চিন্তাভাবনার গভীরতা ও  প্রকাশে অসামান্য প্রচ্ছন্নতা তাকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছিল বিশ্বকবি হিসাবে। কিন্তু আজকে তার মত করে কবিতার প্রতিমা গড়লে এ যুগ ও সময়ের জন্য তা মানানসই নয়।  আজ প্রয়োজন তারই মত প্রতিভাবান কেউ আসুক নতুন ভাবনা ও নতুন ধারার সৃষ্টিশীলতা নিয়ে।


রবীন্দ্রনাথের মত কেউ সব সময় আসে না। আবার কখন তেমন কেউ আসবে কেই বা তা জানে। হয়ত কেউ সেরকম আছে এখন – কিন্তু প্রচারের অগোচরে রয়ে গিয়েছে। এমনও হতে পারে যখন সে থাকবে না তখন তার কবিতা নতুনভাবে আবিস্কৃত হবে সবার কাছে। এ ছাড়া আজকে যারা কবিতার চর্চা করছেন তাদের কারো মধ্যেও হয়ত সেই অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে, আছে প্রকাশের অপেক্ষায় – সময় হলে প্রকাশিত হবে। কে জানে সেই  ক্ষণজন্মা কবি কে যে বিশ্বের কাছে বাংলাকে নতুন আংগিকে ও গরিমায় উপস্থাপন করবে? হতে পারে এই আসরেই এমন কেউ লুকিয়ে আছে – প্রিয় কবি, হতে পারে আপনিই সেইজন, আপনার কাব্য চর্চায় বাংলা কবিতা আপনার কাছে পাবে নতুন রূপ, নতুন সংজ্ঞা, নতুন জীবন।