পথে পথে উদ্ভ্রান্ত সে চলেছিল - কতদিন?
কেউ জানে না, সেও জানে না, কিসের  হিসাব, কত দিনক্ষণ?
কেউ রাখেনি খবর,  
পাগল এই মানুষটি কেনইবা ছাড়ল ঘর?
আবোল-তাবোল বকছে সে অনিচ্ছামত
গোলক ধাঁধায় মাথার ভিতর ঘুরছে অদ্ভুত সব কথা কত,    
কোথায় কি হচ্ছে কিছুই সে জানে না,  
নিজের কি হচ্ছে তাও বোঝে না,  
সব বোধ তার হয়েছে ক্ষয়,
তবু সে বোধশূন্য নয়,
শুধু কিছুই বোধের মধ্যে আসছে না,
ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে জোরে তার ভিতর ভাবনা।


এমনিভাবে ঘুরে একদিন সকালে এল এক গ্রামে,
সেখানে সবাই চেনে তাকে পাগলা নামে।
লোক দেখে পাগলামিটা ওর যেন আরো বেড়ে গেল।
সবাই তখন সহোৎসাহে জোরে তেড়ে এল
“মার, মার, মার ওকে
ঘুঁচিয়ে দে পাগলামী,” – সবার সে কি চিৎকার।
পাগলকে কে না মারে - তারপর শুরু হল ভীষম অত্যাচার!


এমন সময় একটা ছোট মেয়ে এল কোথা থেকে,
খুঁজছে যেন কাঁকে –
দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে।
বললো হেঁকে -  
"তোমরা মারছ কেন এঁকে?
ও তো নয় পাগল বা নয় মাতাল  
এ যে আমার বাবা, ঘর ছাড়া আজ দিন চার-কাল!"  


কথাটা লাগল তার কানে
কি যেন তার পড়ে মনে
দূর কালের স্রোত হতে ভেসে,  
বোধশূন্যতায় হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির আবেশে
হঠাৎ এল চেতন।
ভাবে, চলছিল কিসের গন্ডগোল এতক্ষণ?

“কেমন আছে তোর মা, কতদিন দেখিনি তাকে,
কতদিন দেখিনিও তো তোকে,”
এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে, বলে,
“চল মা, বাড়ি ফিরে যাই চলে।”
মেয়ের হাত ধরে তাকে নেয় কোলে,
বাবা-মেয়ে একসাথে গৃহাভিমুখে পা ফেলে।


সূর্য ওদের দিকে চেয়ে বলে, “দিনটি কি উজ্জ্বল,
অনেকদিন পর  
আজ অসীম পূণ্যে ধন্য আমার সকাল...!”