বলার যা তা বলেই গেলাম, নাইবা হলাম কবি
চাইনি স্তুতির ফুলের মালা, চাইনি রাখো ছবি।
আমার ব্যথা বলতে গিয়েই অন্য সবার বুঝি
আমার কথার মাঝখানেতেই সবার কথা খুঁজি।


নাইবা লিখি ছন্দ-মধুর স্মৃতির ভাবালুতায়
কথার ইন্দ্রজালের কাব্য প্রেম-বিরহের ব্যথায়।
পেটের ক্ষুধার দহন যখন স্মৃতির মালা পুড়ায়
বিষ নিশ্বাসে ঝড় বাতাসে ভস্ম যে তার উড়ায়।


যে হাত ঝরায় অকালে ফুল সেই হাতে দিই কাঁটা
যে কেড়ে খায় দুর্বলের ভাত হইনি তার পা চাঁটা।
এতিমের ধন বিধবার মান করে যে জন হরণ
আমার লেখায় রইল চাওয়া নিত্য তাদের মরণ।


ভন্ড যারা সমাজটাকে বিষায় অহর্নিশ
লেখাতে দিই তাদের মুখে অজগরের বিষ।
ভন্ডজনের কর্ম-কথার দর্প হলে চুর্ণ
ভালোবাসার ফুলের মালায় নাইবা হলাম পূর্ণ।


বিশ্বটাকে প্রেমসাগরে নেই ভাসাতে বারণ
মানুষ সেবায় মানবো কেন ধর্ম-জাতের কারণ?
শেষ বিদায়ে হ'লে কারো চোখদুটো জলময়
নাইবা হলাম কবি, হয় যদি মোর মানুষ পরিচয়।