ক্যামোন যেন অন্যমনা ফাঁটলগুলো আঁকড়ে বুকে
সুখ খুঁজেছি, মুখ বুজে তাই শাঁখের ফুঁয়ে-
স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে লক্ষ্মীঠাকুর।
আমার কিন্তু শরীর জুড়ে কাপড়জামা সবই ভিজে ..
তেলা মাথায় জ্যাবজ্যাবিয়ে জাঁকিয়ে বসা রক্ত সিঁদুর।
আমার স্বামী সোহাগ করে খিমচে ধরে মাংস পেশী -
আঁচড় কাঁটে অধিকারের ।
চূর্ণী নদী, রক্তস্রাব ...বয়স ফারাক চোদ্দবছর
বসন্তের এক অন্ধকারেই ঢাকা পড়ুক বন্ধ ঘরে।
আমার এখন চোদ্দবছর , গুণিতকে ভর দিয়ে আজ
হিসেব কর' বয়স্টা তার যে শুয়েছে আমার উপর!
ঠোঁট ফুলেছে ঠোঁটের ওপর জোড় করা টক আস্ফালনে-
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে শেখে লক্ষ্মীঠকুর।
ফাঁটলগুলো ক্রমাগত বিবরমুখী;
ক্রমাগত পুণ্য দেবে আমার অবোধ জন্মদাতার-
ক্রমে ক্রমে জন্ম নেবে অপুষ্ট এক জরায়ু আর
অপূর্ণ এক উদগ্র কাম।
বহুবচন তোমায় দিলাম ভিড় বাড়ানো জনতাদের
ভোট বাড়ানোর একটা উপায়।
চোদ্দবছর সুখী ছিলাম যাবজ্জীবন স্বপ্ন মেখে-
এখন আমি লক্ষ্মী বড়....
কথায় কথায় সবাই আমার বিশাল নাম করে!
আচ্ছা, নামটা আমার মনে পড়ে?
তুলসীতলায় শাঁখের ফুঁয়ে, ধুঁয়ে যাওয়া প্রদীপশিখায়-
লোকটাকেও শুধিয়েছিলাম;
"মনে পড়ে নামটা আমার-"
বিড়ির গন্ধ শব্দে ভাসে একটা নাম "নষ্টা মাগী"।
তারপরেতে.....
স্মৃতি হাতড়ে বাইরে আসে ভুল করা সব বহুবচন
যারা একদিন আমার পেটে নিতান্ত ভ্রূণ ছিল।
মনের ফাঁটল আজও আছে
আগের মতই স্পষ্ট ভীষণ। আমি খালি ভুলে ছিলাম
রাত্রিবাসের উষ্ণ তপ্ত অঙ্গীকারে।
নামটা আমার আমিও তাই গেছি ভুলে-
জোড় করে যে বিয়ে দিলে সে ডাকত "ভেবলী" বোধহয়,
সেইরকমই কথা ছিল।
ইস্কুলেতে খাতা জোড়া নামটা ছিল বীণাপাণি।