১০৯
শৈশবকালের পুনঃনির্মাণ। শৈশবে অনুভূতি থাকে তীব্র। মনের মধ্যে বোধও জন্মায়। ভেতরে ভেতরে প্রকাশ হয়। কিন্তু তার পূর্ণ পাঠোদ্ধার হয় বয়সকালে যখন কোনো সংবেদনশীল হৃদয় শৈশবের জানালায় উঁকি মারে।
শৈশবের চাহিদা অনেক। নিজ সামর্থ্যে তা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। বড়োরা কেও দিলে তা পাওয়া হয়। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাপ্ত সেই বস্তুগুলোর মধ্যে অনবধানে কিছু খোয়া গেলে, মনের যে বেদনা, শৈশবের সেই অনুভব, তার রেশ সঙ্গে থেকে যায় আজীবন।
শৈশবের চাওয়াগুলিও অদ্ভুত। বিষয়চিন্তা সেখানে মুখ্য নয়। শিশুকল্পনার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ আপাত মূল্যহীন বস্তুও এক শিশুর কাছে অমূল্য।
রূপ রস গন্ধে পূর্ণ এই পৃথিবীতে শিশুর সবে আবির্ভাব। পৃথিবীটাকে পুরো চেনা হয় নি। মানবমনের জটিলতা কুটিলতা তাকে স্পর্শ করে নি। নিজের ছোট্ট পরিসরে আপনজনের মধ্যে ছোট ছোট পাওয়াগুলোই তার কাছে খুব বড়ো পাওয়া।
কবি ইমদাদ হক "শৈশব (প্রথম ভাগ)" কবিতায় শৈশবের অসাধারণ স্মৃতিচারণ করেছেন। শৈশবের অতৃপ্তির বোধগুলো সারাটা জীবন মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। স্মৃতির মনিকোঠায় এক একটি পাওয়া, না পাওয়া, পাওয়া জিনিস হারিয়ে যাওয়ার বোধ জমা হয়।
শিশু প্রকৃতি মা-কে চিনতে শুরু করে নানা অভিজ্ঞতায়। গুরুজনেরা, মা বা অন্যদের কাছে প্রকৃতির পাঠ পায় সে। মাটি তার জীবন্ত সত্তা নিয়ে শিশুর কোমল হৃদয়কে স্পর্শ করে। এই কোমলতা, এই শৈশব অনুভূতি শিশুকালের অনন্য প্রাপ্তি।
শিশুকালের স্মৃতি মনকে আর্দ্র করে। কোন্ সুদূরে মন হারিয়ে যায়। এই হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে এক নস্টালজিক সুখানুভূতি মেলে।
কবি ইমদাদ হক অদ্ভুত কোমলতায় এক একটি ঘটনার সুনিপুণ পরিবেশনে শৈশবকালের অনন্য পুনঃনির্মাণ করেছেন। পরবর্তী ভাগগুলির জন্য অধীর প্রতীক্ষা থাকল।
কবিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।