৩২.
কবি দিনেশ দাসের কবিতা "কাস্তে" এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের "হে মহাজীবন" - এই দুটি কবিতা পড়ে একই অনুভব পাই l
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর কবিতায় মানুষের দাবীকে তুলে ধরেন l শোষনের বিরূদ্ধে তাঁর লেখনী গর্জন করে l রাজনৈতিক ও সামাজিক - উভয় শোষনের বিরুদ্ধেই তিনি সমান প্রতিবাদী l কবি হিসাবে কাব্য সুষমা যেমন তাঁর কাঙ্খিত, তেমনই যুগের দাবী মেনে কঠিন কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত l তাঁর লেখনী মানুষের অধিকার, তাঁর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে জ্বালাময়ী স্বরে কথা বলে l
সৌন্দর্য সাধনা মানুষের চিরন্তন প্রবৃত্তি l খাওয়া পড়া, সামান্য বেঁচে থাকার অতিরিক্ত মানুষ গড়ে তুলেছে  রূপ রঙ রসে পূর্ণ সংস্কৃতির এক জগত, দেশ কাল ভেদে তার কত বিচিত্র প্রকাশ l এই সংস্কৃতির জগত গড়ে তুলে মানুষ সৃষ্টি করেছে এক উন্নত জীবন শৈলী, যা কালকে বশীভূত করেছে, অজর, অমর হয়েছে মানুষের অনন্য সব সৃষ্টি l
কিন্তু এত সব কিছুর পরেও নিজের জৈবিক বেঁচে থাকাটাকে সে অস্বীকার করতে পারে না l কখনও মর্যাদার প্রশ্নে, স্বাধীনতার দাবীতে, কখনও দারিদ্র্য, ক্ষুধা নিবৃত্তির প্রশ্নে তাকে ভাবিত হতে হয় l আর তখন নিজেরই গড়ে তোলা সংস্কৃতিকে সে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয় l
সাহিত্য সংস্কৃতির এক একটি ধারার চরিত্র একেক রকম l কোনোটি কোমলস্বভাব, আবার কোথাও তার দৃঢ় সত্তা l লড়াই, সংগ্রাম, অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কবিতার লালিত্য-ঝংকার, স্নিগ্ধতাকে ত্যাগ করে তাই কঠিন কঠোর গদ্যকে সে হাতিয়ার করে l ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় l সৌন্দর্য সাধনা নয়, পূর্ণিমার চাঁদ নয়, ক্ষুধার জ্বালায় ঝলসানো রুটির দাবীতে গদ্যের নিপাট পুরুষার্থ রূপকে সে আশ্রয় করে l যেমন কবি দিনেশ দাস এযুগের চাঁদকে তার লাবণ্যময়ী রূপ, সৌন্দর্য চর্চা থেকে বিরত করে আন্দোলনের, জীবন-জীবিকা অর্জনের, অধিকার আদায়ের অস্ত্র কাস্তের রূপ দিয়েছেন l