৩৬. কবিতার নাম - কাজলাদিদি
কবির নাম - যতীন্দ্র মোহন বাগচী


আলোচনা -


পরিবারিক প্রেম-প্রীতি, স্নেহ ভালবাসার স্মারক এক অসাধারণ বেদনা বিধুর কবিতা l গ্রাম্য জীবন যাপন ভিত্তিক এক সরলা কিশোরী, দিদির সঙ্গে যার জীবন ছিলো ওতপ্রোত, মায়ের কাছে প্রশ্ন তার দিদির বর্তমান অবস্থান নিয়ে l ছোট্ট শিশু, মৃত্যুর অর্থ বোঝে না l Wordsworth এর "We Are Seven" কবিতার সেই বালিকার মতো, তার কিছু ভাই-বোন মারা যাওয়া সত্বেও যে মানতে রাজি নয় যে তাদের ভাই বোনের সংখ্যা সাতের কম l দিদির সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত সে স্মরণ করে এবং কেন দিদি তাকে সঙ্গ দিতে, তার সঙ্গে খেলতে আসে না এই প্রশ্ন করে করে সে মাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলে l মা আঁচলে চোখ মুছে, মুখ আড়াল করে l পাঠক হিসাবে আমরা বুঝি দিদি আর ইহজগতে নেই l কিন্তু অবুঝ বালিকা প্রশ্ন করেই যায় l শিশুর সারল্য, প্রকৃতি র কোলে তাদের দুই বোনের খেলাধুলার নানা বর্ননা, অদ্ভুত এক বেদনাময় আবেশ তৈরি করেছে কবিতাটিতে l স্কুলপাঠ্য কবিতা l অনেকেরই পড়া l কিন্তু বারবার পড়লেও কবিতাটির আবেদন কমে না l মানবসম্পর্কের প্রেম ও অনুরাগ, বিয়োগ ব্যথা, প্রকৃতির সান্নিধ্য, শিশুর সারল্য, মাতৃস্নেহ - তার অসাধারণ আন্তরিক সব বর্ননা কবিতাটিকে চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা দিয়েছে l
কবিতাটিতে ছন্দের ব্যবহার সম্বন্ধে বলা যায় এটি স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা l অর্থাৎ প্রতিটি মূল পর্বে চার মাত্রা, পাঠের সময় প্রতি পর্বের প্রথম অক্ষরে শ্বাসাঘাত পড়বে এবং পাঠ দ্রুত হবে l


বাঁশ বাগানের ∣ মাথার উপর ∣ চাঁদ উঠেছে ∣ ওই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
মাগো আমার ∣ শোলোক বলা ∣ কাজলা দিদি ∣ কই ∣∣ (৪+৪+৪+১)
স্বরবৃত্ত ছন্দের নিয়মে এখনে মুক্ত স্বর ও বদ্ধ স্বর সব এক মাত্রা হিসাবে গোনা হয়েছে l