১১৮
মানুষ জন্মগ্রহণ করে l জীবনকাল অতিবাহিত করে l  শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব, বার্ধক্য পেরিয়ে আবার প্রকৃতির নিয়মে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে l বাবার ঔরসে মাতৃগর্ভে মাস দশেক থাকার পর যে জীবন পৃথিবীর প্রথম আলো দেখেছিল, এভাবেই সেই জীবনের অবসান হয় l তরুণ কবি আশফাক জুনেদ "ঘোর সত্য" কবিতায় জীবন ও মৃত্যুকে ঘিরে এই নিত্য ঘটমান প্রবাহকে বলছেন পরম সত্য l


কিন্তু জীবনমুখী বিচারে এটা সত্যের একটা অংশ। পরম সত্য নয়। যা জন্মগ্রহণ করেছে, মৃত্যু তার অনিবার্য পরিণতি। এই সত্যকে স্বীকার করে নিয়েও বলা যায়, জীবন নিরর্থক হয় না। জন্ম এবং মৃত্যু এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকে তার মধ্যে কিছু করণীয় থাকে, যার দ্বারা জীবনকে অমর করে তোলা যায়, বা জীবনের ধরাবাহিকতা সৃষ্টি করে রাখা যায়। এটাই পরম সত্য।
সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্পকলা, বিজ্ঞানসাধনা, মানবসেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যাঁরা উল্লেখযোগ্য কাজ করে গেছেন, তাঁরা শারীরিকভাবে আমাদের সঙ্গে নেই, এটা সত্য, কিন্তু তা পরম সত্য নয়। পরম সত্য হল এই মহামানবেরা তাঁদের মহান কাজের মধ্যে দিয়ে আজও মানুষের মধ্যে বেঁচে আছেন।
আর যাঁরা সাধারণ মানুষ, অসীমের, অরূপের সন্ধান যাঁদের ধাতে নেই, তাঁরাও বিবাহ করে সংসার প্রতিপালনের মধ্যে দিয়ে, সন্তানের জন্ম দিয়ে, সেই সন্তানের লালন পালন করে তাকে বড়ো করে তুলেন। এইভাবে জীবনের ধরাবাহিকতা বজায় থাকে। নিজের জীবনকে ঋণ হিসাবে ধরে নিলে আর একটি জীবনের সৃষ্টি করে সেই ঋণ শোধ হয়ে যায়। যে ঋণ শোধ হয়ে গেল, সেখানে কিসের জীবন, কিসের মৃত্যু ? এটাই পরম সত্য !
মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের বেঁচে থাকা, নিয়ত সৃজনকাজে ব্যাপ্ত থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুকে তো আমরা রোধ করতে পারি না ! সুতরাং তার কথা ভেবে লাভ কি ? এই যে বেঁচে আছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এটাই পরম সত্য।
তরুণ কবি আবেগময় ভাষায় কবিতাটি সুন্দর পরিবেশন করেছেন l ভাবের জায়গায় জীবনমুখী ভাবনায় চালিত হয়ে কবির ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত হতে পারি নি।
কবিকে জানাই আন্তরিক ভালবাসা ও শুভকামনা !