৩১.
কবির পাতায় কবিতাটির উপর আলোচনা :
যাদব চৌধুুরী ২২/০৪/২০১৭, ২১:৩৪ মি:
"ভালবাসার বোধ ও তার প্রকাশ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন l ছেলেদের একরকম l মেয়েদের বুঝি অন্যরকম l আবার সব ছেলের একরকম নয় l কেও বহির্মুখী l ভাব গোপন করে না l অনেকের সঙ্গে মুক্তমনে মেশে l এরা ঠিক কোনো একজনের সঙ্গে বেঁধে যায় না l কোনো কোনো মেয়ে কিন্তু এই শ্রেণীর ছেলেদের খোলামেলা আন্তরিক মেলামেশাকে প্রেম বলে ভূল ভাবতে পারে l তারা দিবাস্বপ্নের জাল বুনতে থাকে l
আর এক শ্রেণীর ছেলে যারা একটু অন্তর্মুখী, তারা সাধারণত মেয়েদের এড়িয়ে চলে l মিশতে ভয় পায় l কিন্তু এদের বিশেষত্ব হলো কোনো কারণে কোনো মেয়ের সঙ্গে এরা যদি প্রথমবারের জন্যও মেশে, তো যায় ফেঁসে l মেয়েটির সম্বন্ধে সে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে l মেয়েটির দিক থেকে সাড়া না পেলেও সে মনে মনে তাকে ভালবেসে যায় l এখানেও ঐ দিবাস্বপ্নের ব্যাপারটি ঘটে l দিবাস্বপ্ন মানেই হলো, প্রেম বাস্তবে অপরপক্ষের মঞ্জুরি পায় নি, পাবে না, এটা জেনেও একতরফা তাকে ভালোবেসে যাওয়া l স্বপ্নের মধ্যে অলীক সুখ অনুভব করা l যেখানে প্রেম উভয় তরফে, সেখানে দিবাস্বপ্নের গল্প নেই l
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা প্রেম ভালোবাসার ব্যপারে অনেক যুক্তিবাদী, কম আবেগপ্রবণ এবং বাস্তববাদী l এমনিতেই দৈহিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে মেয়েরা সমবয়সী ছেলেদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে থাকে l এই অগ্রগতি প্রেমঘটিত ব্যপারে মেয়েদের যুক্তির পথে চালিত করে, যেখানে এই পরিণতি একটু কম থাকার জন্য সমবয়সী ছেলেরা অনেক সময় আবেগে ভেসে যায় আর বাস্তবে যা সম্ভব নয় তার বোধ হারিয়ে দিবাস্বপ্নে মশগুল হয়ে ওঠে l
কবিতাটি পড়তে পড়তে এত কিছু আগে পিছে ডাঁয়ে বাঁয়ে ভাবনায় মনটা ছেয়ে গেল l যে কথাগুলি সূত্রাকারে লিখলাম তার অনুমোদন কবিতাটি করে কি না, নিশ্চিত নই l এ সম্পর্কে সাধারন যা ধারনা তার কতটাই বা এই বোধের সঙ্গে মেলে, সেটাও ভাববার বিষয় l তবে দেখলাম, একজন প্রেম নিবেদন করছে, অন্যজন নিরুত্তর l প্রথমজন ভাবছে অপরপক্ষ ভালোবাসে, কিন্তু স্বীকার করে না l এই বিশ্বাসে চলে দিবাস্বপ্ন l
কবিতাটি সুন্দর ছোট্ট প্রকাশে প্রেমের মতো একটি জটিল, রহস্যময় বিষয়কে ছুঁয়েছে l তার বিশ্লেষণে মতান্তর স্বাভাবিক l"


অনিমেষ দন্ডপাট ২৩/০৪/২০১৭, ১৭:১৭ মি:


"পার্থিব প্রেম কবিতায় এসে অপার্থিব হয়ে গেছে,
ছোট ছোট ভাব ছোট ছোট চাওয়া এই রূপে থাক বেঁচে।"


খলিলুর রহমান ২৩/০৪/২০১৭, ০৬:১৬ মি:


"ছোট্ট সুন্দর প্রেম বিরহের কথন।"


কবীর হুমায়ূন ২৩/০৪/২০১৭, ০১:০৫ মি:


"আসলেই কবি আপনার লেখার আলাদা একটি আকুতি সুন্দর করে ফুটে উঠেছে। পৃথিবীর তাবৎ বিরহীদের মনের আকুতিকে তুলে ধরে এনছেন ছোট পরিসরের কবিতায়। এ শাশ্বতা কবিতাকে মাধুর্যময় করে তুলৈছে l


ভালো হযেছে কবিতা। শুভ কামনা কবি।"


কবিতাটি ঘিরে আলোচনার উত্তরে স্বয়ং কবি যেভাবে তাঁর পাতায় কবিতাটির ভাব বিশ্লেষণ করেছেন :


রুনা লায়লা (কাদম্বরী কবি) ২৩/০৪/২০১৭, ১৬:৩৩ মি:


“দিবাস্বপ্ন” কবিতাটিতে প্রেমিকা অভিমানের তীর ছুঁড়েছেন তার প্রিয়তম বা প্রেমিকের দিকে।তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসে।দুজন দুজনার। তাদের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক।তারা যেখানে যায় চেষ্টা করে এক সাথে যাওয়ার।কিন্তু কোনো একটা সময়ে সঙ্গতকারণে প্রেমিক একা যায়।সেখানে সে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে।কোনো যোগাযোগ না করায় তার প্রিয়া ভীষণ অভিমান করে,যা কবিতায় প্রতিফলিত হয়।


প্রিয়া তার প্রিয়কে খুব মিস করে।তার মনের ব্যাকুলতা,আবেগ ঝরে পড়ে।মনে হয় প্রিয়হীন জীবন সত্যিই খুব যন্ত্রনাময়।দম বন্ধ হবার উপক্রম।সত্যিই এ এক অসাধারণ অনুভূতি। অপরদিকে দুজনের ভালোলাগার ,ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।কিন্তু দুজনের পথ ভিন্ন।দু,পথের পথিক।
প্রিয় প্রিয়ার ভালোবাসা অনুভব করে।তবুও প্রিয়ার আক্ষেপ ঝরে পড়ে কবিতার শেষ স্তবকে।


দুজনের মধ্যে বিশ্বাস,ভালোবাসা,সম্পর্কের পবিত্রতার এখানে কোনো ঘাটতি নেই।তবুও বাস্তবে তা বহূদূর।
তাই কবিতাটির শিরোনাম “দিবাস্বপ্ন” দেয়া হয়েছে।যার অর্থ অবাস্তব কল্পনা।"


কবি রুনা লায়লা কবিতাটির ভাব বিশ্লেষণের পর আলোচকের প্রতিক্রিয়া :


যাদব চৌধুুরী ২৩/০৪/২০১৭, ১৭:৫৩ মি:


"কবিতাটি পড়ে যা অনুভব হয়েছিল সেটা লিখেছিলাম l পাঠক হিসাবে l কবিতাটির উৎসভূমি বা প্রেক্ষাপট জানা না থাকায় কিছু কবিতার পাঠোদ্ধারে পাঠকদের একটু সমস্যা হয় l কারণ কবিতার ক্ষেত্রে ব্যঞ্জনা থাকে, অর্থের কিছু আড়াল থাকে l সেক্ষেত্রে আলোচককে নিজের কল্পনার জাল বিস্তার করে অধরা অর্থ ও ভাবকে ধরবার প্রয়াস করতে হয় l কখনও তা সঠিক দিশা পায়, কখনও ভিন্ন দিশা পেলেও তার নিজের সৌন্দর্যে অনন্য রূপ নেয় l এক্ষেত্রে কবি নিজে উদ্যোগী হয়ে ঠিক যে মনোভাব থেকে তিনি কবিতাটি লিখেছেন তা স্পষ্ট করে যদি পাঠক-আলোচকদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে কবিতাটির প্রকৃত পাঠোদ্ধারে ও রসাস্বাদনে কোনো বাধা থাকে না l ঠিক এই কাজটিই আপনি করেছেন l
এটিই কবিতা সাহিত্য পাঠ, আলোচনা ও রসাস্বাদনের কাম্য পথ l এভাবেই কবিতা চর্চা সঠিক দিশা পাবে l কবিতা আসরে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই আমি এরকমটা ভেবেছি এবং সেই অনুযায়ী কবিতা রচনার পাশাপাশি আসরের অন্য কবিবন্ধুদের কবিতার গঠনমূলক আলোচনা করে গেছি l কিছু ক্ষেত্রে আমার বিশ্লেষণের সঙ্গে যিনি কবি তাঁর বিশ্লেষণ মিলে গেছে, কোনো ক্ষেত্রে মেলে নি l সেক্ষেত্রে যেখানে কবি নিজের বোধ স্পষ্ট করেছেন আলোচনাটির প্রতিক্রিয়ায়, সেখানে কবিতাটির পাঠোদ্ধার ও রসাস্বাদন একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছে l
এতে করে কবিতা পাঠকরাও উপকৃত হচ্ছেন l সবচেয়ে উপকৃত হচ্ছে বাংলা কবিতার চর্চা l
"বাংলা কবিতা" এই অভিনব মঞ্চ সৃষ্টি করেছে l তার জন্য আমরা সকল কবিবন্ধু "বাংলা "কবিতা" কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ l


গঠনমূলক আলোচনা সুস্থ কবিতা ও সাহিত্য চর্চার অন্যতম শর্ত l"


আসরের সকল কবিবন্ধুদের আসরের একটি কবিতাকে ঘিরে এই আলোচনা ও বিশ্লেষণমূলক রচনাটি পড়ার জন্য অনুরোধ জানাই l