১২২
মানবজীবন একেকটা ছোট নদীর মতো। সৃষ্টির পর থেকেই বয়ে চলা তার ধর্ম l এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। শুধু ছুটে চলার বাসনা। পথ যেদিকে খোলা, হৃদয়ের দোলা সেদিকপানে ছুটে যাবার জন্য ব্যাকুল। আপনজনের সঙ্গে স্নেহ, ভালোবাসার সম্পর্কে যুক্ত l কিন্তু সেই সম্পর্ক বাইরে ছুটে যাবার আকর্ষণকে দমন করতে পারে না l শুধু কলকল করে বয়ে যাবার সাধনা ও প্রস্তুতি নিরন্তর l
যাবার অনুমতিও মিলে যায়। সংস্কারমুক্ত মনে বাইরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেমন তার গতিময়তা, নামতে নামতে, ছুটতে ছুটতে বিরাট বিশ্বপ্রকৃতির মাঝে মিশে যায়। গ্রাম পরিবেশ ছাড়িয়ে, আরো দূরে, অনেক দুরপানে ছুটে চলে সে l পথে অরণ্যপ্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির সংস্পর্শে নানা গতিবেগে সামনের পানে এগিয়ে চলে l
মুক্তির আশায় বেরিয়ে পড়ে যারা, পরিবার আপনজনের বাঁধন, ভালোবাসার আকর্ষণ পিছনে ফেলে এগিয়ে চলে সামনের পানে, তাদের অনেকে গন্তব্যে পৌঁছয়, কেউ বা মাঝপথে পথ হারায়। যেমন অরণ্যপ্রকৃতি, ঘনঘোর ঝোপঝাড়, মানবমনের বিচিত্র কর্মকাণ্ড, তার জটিল মনের দুর্গম দুর্ভেদ্য পথরচনায় কত প্রেমের পথিক পথভ্রষ্ট হয় l
"চলে গেল, কোথায় গেল- কতদূর
তা কিন্ত,
আমি আজও জানি না।"
শুধু আপনজনেরা তার স্মৃতিটুকু মনের মধ্যে ধরে রাখে। তার আচরণ, তার রূপের স্মৃতি সকলকে মুগ্ধতায় ভরে রাখে।
মানুষের স্বপ্ন, তা পূরণের সীমাবদ্ধতা, তাকে ঘিরে আপনজনের ভালোবাসা ও মুগ্ধতার ভাবনা ঘিরে আছে কবিতাটিতে। সরল প্রাণস্পর্শী বর্ণনার জন্য কবিকে অভিনন্দন !