১৩. সেই চিঠি ১৪. কবিতার ব-দ্বীপ ১৫. তোমাকে দেখেছি ১৬. বাঁশির সুরে পাগল


একটি কবিতার উপর আলোচনা - ১৩
কবিতার নাম - সেই চিঠি
কবির নাম - ডঃ সুজিতকুমার বিশ্বাস
আলোচক - যাদব চৌধুরী


মূল রচনা :


আজ আমার দুপুরবেলা-
নানা স্বপ্নে কাটে বেশ;
ঘরের দ্বারে নানান কাজে-
নেই বুঝি তার শেষ।
গেয়ে যে উঠি কতই সুরে-
একটু যে বসে- উঠি;
হাজার খাতার মাঝে দেখি
বালক বেলার চিঠি।
স্বপনের দোরে ঘুম ভাঙে
উঠেছি দেখি চমকে;
হাজার প্রশ্ন বুকেতে বেঁধে-
গিয়েছি একটু থমকে।
কত ভাবনা স্মৃতি পর্দায়
ভাসে ছবি শত শত;
পৃথিবীর এ সকল সুখ
চিঠি মাঝে নিবেদিত।


আলোচনা -
জীবনের দুপুরবেলায় যখন হাজার পাতায় হাজার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ হয়ে আছে, তখন শয়নে, স্বপনে অতীত কবিকে দোলা দেয়, অনেক নতুন প্রশ্নের সম্মুখে দাঁড় করায় l অতীত বর্তমানের ঘাত প্রতিঘাতে জীবন এগিয়ে চলে সম্মুখপানে, মন পড়ে থাকে অতীতে, দৃষ্টি সামনে l কবি অন্য নানা ভাবনার সাপেক্ষে অতীত বর্তমান অভিজ্ঞতাকে কবিতায় বাঁধতে চেয়েছেন বলে আমার অনুমান, যেমনটা দিবাস্বপ্নে তাঁর চোখে ধরা দিয়েছে l কবিকল্পনা সুন্দর l


একটি কবিতার ওপর আলোচনা - ১৪
কবিতার নাম - কবিতার ব-দ্বীপ
কবির নাম - মো. ইমরান হোসেন (ইমু)
আলোচক - যাদব চৌধুরী


মূল রচনা :


সময়ের স্রোত থমকে গেছে কবির
স্তব্ধ হয়ে গেছে নদী ও মোহনার মাঝে
হ্যাঁ, ঠিক এভাবেই জোয়ার-ভাটার আমন্ত্রনে
যখনই কবি নিস্তব্ধ হয়, ঠিক তখনই
ছন্দের উর্বর পলি জমে এই মোহনায়
তারপর.., কবিতার ব-দ্বীপ তৈরি হয়।
মায়াবী এই দ্বীপে কবি তাবু গাড়বেন
জীবন আর আত্মার টানে কিংবা মৃত্যুর বিরহে
এখানে, কবির এই বাংলোতে রোজ কবিতার আসর বসে
ছন্দে ছন্দে প্রিয় তমাকে নিয়ে,
এই আসর কবিতা লেখার নেশার আসর
এখানে কেউ মদের নেশায় বুদ হয় না
কিংবা কেউ ছিড়ে খায় না বাড়ন্ত কোন বালিকার দেহ,
বরং অনাবিল সুখ আর ছন্দের ভেলায়  ভেসে
প্রিয়াদের নিয়ে জয়গান গাওয়া হয়,
এখানে কারো অপবাদ গাওয়া হয় না
বরং জয়গান গাওয়া হয় মানবতার।
এখানে আসতে পারো তোমরাও-
যারা বুঝে গেছো জীবন সেতো জীবনেরই জন্য
আর জীবনই হল কবিতার আরেক নাম।


আলোচনা :
মোহনায় এসে নদীর গতি কমে l কখনো স্তব্ধ হয় l দীর্ঘ যাত্রায় নদী অর্জন করে কত শত উপাদান l তা পলি আকারে জমা হয় l বদ্বীপ তৈরি হয় l নদী অর্থাৎ কবি l নদীর গতি জীবন l পলি হলো জীবনের অনুভব l আর  বদ্বীপ অর্থাৎ কবিতা l ভূগোল বিষয় এল কবিতায় l আমি কবিতাটি যেভাবে বুঝলাম, ঠিক বুঝেছি কি না জানি না, তবে এই অনুভবে কবিতাটি পড়ে আনন্দ পেয়েছি l


একটি কবিতার ওপর আলোচনা - ১৫
কবিতার নাম - তোমাকে দেখেছি
কবির নাম - আব্দুলাহ্ আল মামুন
আলোচক - যাদব চৌধুরী


মূল রচনা -


তোমাকে দেখেছি পথের ধারে।
খোলা চুলে অপরুপ তোমার মুগ্ধতা
তোমাকে দেখেছি কলেজের বারান্দায়
শহস্র শতাব্দির অসীম মুগ্ধতায়।
তোমাকে দেখেছি '
শিল্পির তুলিতে তুমি কত সুন্দর ।
কবির কবিতার মত মুগ্ধকর।।
তোমাকে দেখেছি দেবী রুপে ।
আলোকিত মন্দিরের প্রদিপে ।
দেখেছি তোমায় স্নীগ্ধ সন্ধ্যায় "
আমার ভালবাসার বারান্দায়।
দেখেছি তোমায় ভাবনার আঙ্গিনায়।
দেখেছি হিজলের ছায়ায়
এ বসুধার ছায়ায় '
যুবক প্রথিকের পথের তৃষ্ণায় ।
মরু প্রান্তরে একফালি ছায়ায়।
তোমাকে দেখেছি আমার স্বপ্নে '
দূর থেকে দেখেছি মুগ্ধ হয়ে ।
কাছে তোমার দেখেছি হতাসা'
কালো মেঘে মিশ্রিত ঘন কোয়াশা।
চারদিকে মৃত সব পাওয়ার আশাঁ।
তবু তোমাকে দেখেছি '
শান্তি পেয়েছি মনে;
যে শান্তি পায় নাবিকের দল।
সরাব পানরত যুবাদের দল।
সেই সুখ পেয়েছি আমি
তোমার চোখের চাহনিতে।
তোমার ঠোটের স্নীগ্ধতায়।
তোমার রুপের মাধুর্যতায়।


আলোচনা :
প্রেমিক কবিদের প্রত্যেকের একটা করে প্রেরণাদায়ী ভালোবাসার জন থাকে l এই প্রেরণা বাস্তবের কোনো নারী হতে পারে, অথবা পুরো কাল্পনিক হতে পারে l ভালোবাসার সম্পর্কটা একতরফা হতে পারে, বা mutual হতে পারে l Dante-র ছিলো Beatrice, Petrarch-er Laura, Surrey- এর Geraldine, Sydney-এর Penelope, Spenser-এর Elizabeth Boyle, Shakespeare-এর Dark Lady, সুনীল গাঙ্গুলীর নীরা -- এরকম লম্বা তালিকা হবে l সকলেই প্রেয়সীর ভালবাসার স্পর্শ পান নি l কিন্তু তাদের কবিতার প্রেরণা হয়েছে তাদের প্রেম l প্রেম যখন ধরা দেয় না, তখন platonic হয়ে স্বর্গীয় আবেশ তৈরি করে l
অধরা প্রেম নিয়ে অনেক কবিতা হয়েছে, হবে l
বর্তমান কবিতাটিতে কবির প্রকাশ সুন্দর l


একটি কবিতার ওপর আলোচনা - ১৬
কবিতার নাম - বাঁশির সুরে পাগল
কবির নাম - মো. ইমরান হোসেন (ইমু)
আলোচক - যাদব চৌধুরী


মূল রচনা  -


সখি আয় মালা গাঁথি
সুর শুনি ঐ রাখালিয়ার বাঁশি
এই তনু মন শিহরিত হয়
বিভোর স্বপ্ন রাশি রাশি।


কোন সে দূরের এই অজানা
রাখালিয়ার দেশ
বাঁশির সুরে পাগল আমি
অচিন পুরের বেশ।।


বাঁশির সুরে নাচছে দেহ
উদাস তনু মন
তোমার সুরে পাগল আমি
উদাস সারাক্ষণ।।।


আলোচনা -


কবিতাটিতে সুন্দর রোমান্টিক escapism আছে l সুরের অজানা জগতে হারিয়ে যাওয়া l তার সঙ্গে sesualism, "উদাস তনু মন", "সুরে পাগল" কবি l
কিন্তু মনে হয়েছে ছন্দ যেন কেটে কেটে যাচ্ছে l দু একটি শব্দ ছেঁটে দিলে ছন্দটা রক্ষা পায়, আমার মতে l কবির অনুমতি সাপেক্ষে আমার editing


সখি, আয় মালা গাঁথি
শুনি রাখালিয়া বাঁশি
তনুমন শিহরিত
স্বপ্ন রাশি রাশি l


কোন্ সে দূরের অজানা
রাখালিয়া দেশ
বাঁশির সুরে পাগল হলাম
অচিনপুরের বেশ l l


বাঁশির সুরে নাচছে দেহ
উদাস তনুমন
প্রিয়র সুরে পাগল হলাম
আনমনা প্রতিক্ষণ l